
ঢাকা : চিকিৎসার নামে জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) আনিসুল করিমকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউট ও হাসপাতালের রেজিস্ট্রার ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপ কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ জানান, মঙ্গলবার সকালে শেরেবাংলা নগর সরকারি স্টাফ কোয়ার্টারের বাসা থেকে মামুনকে গেপ্তার করা হয়।
এই চিকিৎসককে আদালতে পাঠিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে বলে জানান হারুন অর রশিদ।
তিনি বলেন, “এর আগে গ্রেপ্তারদের মধ্যে যে চারজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে, তাদের দেওয়া তথ্যে আব্দুল আল মামুনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার পরামর্শেই দালালের মাধ্যমে পুলিশ কর্মকর্তা আনিসুলকে মাইন্ড এইড হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল।”
উপ কমিশনার হারুন বলেন, আনিসুল করিম চিকিৎসা নিতে প্রথমে সরকারি হাসপাতালে (জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউট ও হাসপাতালে) গিয়েছিলেন। সেখান থেকে ডা. মামুনের পরামর্শে তাকে আদাবরের ওই বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়।
“ডাক্তার মামুন মাইন্ড এইড হাসপাতাল ছাড়াও টাঙ্গাইলের একটি এবং ঢাকার আরেকটি বেসরকারি হাসপাতাল রোগী দেখেন।”
এক প্রশ্নের জবাবে উপ কমিশনার হারুন বলেন, “মাইন্ড এইডে কোনো রোগী পাঠালে ৩০ শতাংশ কমিশন পেত ওই ডাক্তার।”
গত ৯ নভেম্বর ঢাকার আদাবরের মাইন্ড এইড হাসপাতালে মানসিক রোগের চিকিৎসা নিতে গিয়ে মারধরের শিকার হয়ে মারা যান এএসপি আনিসুল। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, আনিসুল উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করায় কর্মচারীরা তাকে শান্ত করার চেষ্টা করছিলেন।
তবে ঘটনার পর হাসপাতালের ‘অ্যাগ্রেসিভ ম্যানেজমেন্ট রুমে’ আনিসুলকে মারধরের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। তাতে দেখা যায়, আনিসুলকে ৬ থেকে ৭ জন মাটিতে ফেলে চেপে ধরে আছেন, দুজন তকে কনুই দিয়ে আঘাত করছিলেন। হাসপাতালের ব্যবস্থাপক আরিফ মাহমুদও তখন পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন।
উপ-কমিশনার হারুন পরদিন সাংবাদিকদের বলেন, ৮-৯ জন লোক মিলে আনিসুলকে এলোপাতাড়ি মারধর করন। তারা সবাই হাসপাতালের ওয়ার্ডবয়, ক্লিনার।
আনিসুলের মৃত্যুর পর তার বাবা ফাইজ্জুদ্দিন আহমেদ মোট ১৫ জনকে আসামি করে আদাবর থানায় হত্যা মামলা করেন।
মামলার এজাহারভুক্ত ১২ আসামিকে পুলিশ আগেই গ্রেপ্তার করেছিল। ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুনকে নিয়ে মোট ১৩ জনকে এ পর্যন্ত গ্রেপ্তার করা হল।