সোমবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ৬ মাঘ ১৪৩২

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ৯০৭, ভ্যাকসিন পাবেন ভিসিপন্থী ৯ শিক্ষক!

| প্রকাশিতঃ ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২১ | ৯:২১ অপরাহ্ন


চট্টগ্রাম : চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) বর্তমানে কর্মরত আছেন ৯০৭ জন শিক্ষক, তাদের মধ্যে ৬ জনসহ মোট ৯ শিক্ষককে করোনার ভ্যাকসিন দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের পরিচালককে চিঠি দেয়া হয়েছে।

গত ১৪ ফেব্রুয়ারি এই চিঠি দিয়েছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) এসএম মনিরুল হাসান। উপাচার্য প্রফেসর ড. শিরীণ আখতারের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত নয়জনকে ভ্যাকসিন দিতে অনুরোধের এই চিঠিকে বৈষম্যমূলক বলে আখ্যা দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক।

যেখানে রাষ্ট্রীয় পর্যায় থেকে করোনা ভ্যাকসিন দিতে রেজিস্ট্রেশন সহজ করে দেওয়া হয়েছে, সেখানে গুটিকয়েক শিক্ষকের স্বাস্থ্যের প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এত সুনজর কেন- সে আলোচনাই চলছে এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বত্র।

৯ শিক্ষককে বিশেষ সুবিধা পাইয়ে দিতে বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্রার স্বাক্ষরিত ওই চিঠি হাতে এসেছে একুশে পত্রিকার।

জানা গেছে, ১০ থেকে ১৫ বছর আগে অবসরে যাওয়া চার শিক্ষক এবং বর্তমান অপেক্ষাকৃত পাঁচ জুনিয়র প্রফেসরকে করোনা ভ্যাকসিন দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের মধ্যে আলমগীর মোহাম্মদ সিরাজ উদ্দিন, আসমা সিরাজ উদ্দিন, ড. আব্দুস ছালামকেও করোনা ভ্যাকসিন দিতে রেজিস্ট্রারের পক্ষ থেকে চিঠি দেওয়া হয়।

বর্তমান শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা পরিচালনা ও প্রকাশনা দফতরের পরিচালক ড. আব্দুল্লাহ আল ফারুক, সিন্ডিকেট সদস্য ড. মঈনুল হক মিয়াজী, নৃ-বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. রহমান নাসির উদ্দিন, আইসিটি সেলের পরিচালক খায়রুল ইসলাম, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা ও সাবেক প্রক্টর সিরাজ উদ দৌলা ও বর্তমান প্রক্টর ড. রবিউল হাসান ভূঁইয়া।

শুধু তাই নয়, যাদের এই বিশেষ সুবিধা দিতে চিঠি দেওয়া হয়েছে তাদের কারও কারও বিরুদ্ধে রয়েছে গুরুতর অভিযোগ। প্রফেসর ড. রহমান নাসির উদ্দিনের বিরুদ্ধে মহামান্য রাষ্ট্রপতিকে হেয়প্রতিপন্ন করে ফেসবুকে লেখালেখির ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী দফতরে দায়ের হয় অভিযোগ। সে অভিযোগ তদন্তে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দেয় প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন তদন্ত কমিটি গঠন করে। এ অভিযোগ ওঠার পর বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা পরিচালনা ও প্রকাশনা দফতরের পরিচালক পদ থেকে সরে যেতে বাধ্য হন ড. রহমান নাসির উদ্দিন।

একজন শিক্ষক একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘৯০২ জন শিক্ষকের করোনা ভ্যাকসিন নিশ্চিতের জন্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়ে দীর্ঘসূত্রিতায় ফেলে দিয়েছে প্রশাসন। প্রশাসন উপাচার্যের ঘনিষ্ঠ নয় শিক্ষকের প্রাণ রক্ষায় জরুরি ভ্যাকসিন দিতে চমেক হাসপাতাল পরিচালককে চিঠি দেওয়াটা লজ্জার বিষয়।’

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর এসএম মনিরুল হাসান একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘৯ জন শিক্ষকের মধ্যে কেউ কেউ হাটহাজারী থেকে ভ্যাকসিন নিয়ে ফেলেছেন। আলমগীর মোহাম্মদ সিরাজ উদ্দিন স্যার ও আসমা সিরাজ উদ্দিন ম্যাডাম বাকি আছেন। ওনারা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ভ্যাকসিন নিলে কি খুব বেশি ক্ষতি হয়ে যাবে? বিষয়টি একটু পজেটিভভাবে দেখার অনুরোধ করছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘৯ জনকে ভ্যাকসিন দেয়ার চিঠিটি দেয়ার আগে সব শিক্ষকসহ চবি পরিবারের এক হাজার জনের বেশি ব্যক্তিকে টিকা দিতে মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেয়া হয়েছে। সবাইকে টিকার আওতায় আনতে আমরা চেষ্টা করছি। এমনকি চবি সাংবাদিক সমিতির সদস্যদেরও টিকার আওতায় আনার চেষ্টা আমাদের আছে।’