বুধবার, ৩ মার্চ ২০২১, ১৯ ফাল্গুন ১৪২৭

কালুরঘাট সেতুর জন্যে তাহাজ্জতের নামাজে এমপি মোছলেমের প্রার্থনা

প্রকাশিতঃ সোমবার, ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২১, ১:৫১ পূর্বাহ্ণ

চট্টগ্রাম : চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বোয়ালখালী আসনের সংসদ সদস্য মোছলেম উদ্দিন আহমেদ প্রতিদিন তাহাজ্জতের নামাজে কালুরঘাট সেতুর জন্য প্রার্থনা করেন। পাশাপাশি এমপি হিসেবে তার মাঝে যেন অহংকার পেয়ে না বসে, আমৃত্যু যেন মানুষের কল্যাণে কাজ করে যেতে পারেন সেই প্রার্থনাও করেন সৃষ্টিকর্তার কাছে।

শনিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাতে নগরের একটি কমিউনিটি সেন্টারে ভাতিজার বিয়ে অনুষ্ঠানের ফাঁকে একুশে পত্রিকার সাথে অনানুষ্ঠানিক এক আলোচনায় এমপি মোছলেম উদ্দিন এই তথ্য দেন।

তিনি বলেন, আমার চাওয়া-পাওয়ার কিছু নেই। কালুরঘাট সেতুটা দ্রুত নির্মাণ করাই সৃষ্টিকর্তার কাছে আমার একমাত্র চাওয়া। সে কারণে প্রতিদিন তাহাজ্জতের নামাজে কায়মনোবাক্যে আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করি। বলি, হে আল্লাহ তুমি সহায় হও। কালুরঘাট সেতুটি যেন সহসা নির্মাণ শুরু করতে পারি সেই তৌফিক দান করো।

মোছলেম উদ্দিন বলেন, আল্লাহকে আরো বলি, এমপি হওয়ার পর এক মুহূর্তের জন্যেও যেন বদলে না যাই, আমার মাঝে যেন কোনো অহংকার কাজ না করে, জীবনের শেষ নিশ্বাস পর্যন্ত যেন মানুষের সেবা করতে পারি- সেই দোয়াই চায় আল্লাহর কাছে তাহাজ্জতের নামাজে।

তিনি বলেন, মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে আমার কৃতজ্ঞতার শেষ নেই। আমি ভাবিনি জীবনের পড়ন্তবেলায় এসে এমপি হবো। দীর্ঘদিনের লালিত আশা একসময় ছেড়ে দিয়েছিলাম। কিন্তু আল্লাহ আমাকে এমপি হওয়ার সুযোগ দিয়েছ। এজন্য বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছেও আমি চিরকৃতজ্ঞ, ঋণী।

যতদিন বেঁচে থাকি বোয়ালখালীবাসীর জীবনমান উন্নয়ন ও মানুষের সেবা করে কাটিয়ে দেব। -যোগ করেন মোছলেম উদ্দিন।

প্রসঙ্গত, আশৈশব রাজনীতি-সম্পৃক্ত, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোছলেম উদ্দীন আহমেদের বেড়ে ওঠা, রাজনীতি, জনসম্পৃক্ততা সবই জন্মভিটা বোয়ালখালীতে। কিন্তু  ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি মনোনয়ন পান পাশের পটিয়া সংসদীয় আসনে। ফলে দুবারই তিনি অল্প ভোটে পরাজিত হন।

এরপর ২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮ তে নিজ জন্মস্থান বোয়ালখালী থেকে মনোনয়ন চেয়ে ব্যর্থ হন। মৃত্যুর আগে জীবনে একবার এমপির স্বাদ নিতে আকুল হয়ে উঠেছিলেন তিনি। কিন্তু ভাগ্যদেবী ফিরে তাকাচ্ছিল না যেন! বোয়ালখালী-চান্দগাঁও আসন থেকে নৌকা প্রতীক নিয়ে পর পর তিনবার নির্বাচিত সংসদ সদস্য জাসদের কার্যকরী সভাপতি মাঈন উদ্দিন খান বাদল মারা যাওয়ার পর চোখের জলে উপনির্বাচনে দলের মনোনয়ন পান মোছলেম উদ্দিন আহমেদ। মনোনয়নের আগে নিজের বঞ্চনা ও এমপি হওয়ার লালিত স্বপ্নের গল্প শুনিয়ে একুশে পত্রিকার এক ভিডিও সাক্ষাৎকারে অঝোরে কেঁদেছিলেন এই নেতা।

গতবছরের ১৩ জানুয়ারি উপ নির্বাচনে জয় পেয়ে বহু প্রত্যাশিত, স্বপ্নের সংসদে যান তিনি। পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।