মঙ্গলবার, ৩০ নভেম্বর ২০২১, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৮

থানায় আটকে রেখে কিশোরীকে ধর্ষণ করেন ওসি প্রদীপ, আদালতে বেবী

প্রকাশিতঃ সোমবার, অক্টোবর ১১, ২০২১, ১২:৪০ পূর্বাহ্ণ

কক্সবাজার প্রতিনিধি : চাঞ্চল্যকর মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যা মামলার পূর্বনির্ধারিত পঞ্চম দফায় প্রথম দিনে আরও ৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা সম্পন্ন হয়েছে।

ওসি প্রদীপ ও তার বাহিনী ২০২০ সালে আমার কিশোরী কন্যাকে অস্ত্র ঠেকিয়ে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায়। তারপর থানার দ্বিতীয় তলায় আটকে রেখে দীর্ঘদিন ধরে আমার মেয়েকে ধর্ষণ করে ওসি প্রদীপ। ছাড়া পেয়ে মেয়ে বাড়ি ফিরে আসার পর ক্ষোভে-অপমানে কয়েকবার আত্মহত্যার চেষ্টা চালায়।

ওই সময় মামলা করার সাহস পাননি দাবি করে বেবী বেগম বলেন, মেজর সিনহা হত্যা মামলার পর তিনি সাহস পেয়ে ওসি প্রদীপের বিরুদ্ধে আদালতে ধর্ষণ মামলা করেছেন।

রোববার সকাল সোয়া ১০টার সময় কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ মো. ইসমাঈলের আদালতে আলোচিত মেজর সিনহা মো. রাশেদ হত্যামামলার ২১তম সাক্ষী বেবি বেগমের সাক্ষ্যগ্রহণের মধ্য দিয়ে শুরু হয়ে সন্ধ্যা সাড়ে ৫ টা পর্যন্ত চলে আদালতের কার্যক্রম। আর সেই সাক্ষ্য প্রদানের সময় এসব কথা জানান বেবী বেগম।

বেবি বেগম ছাড়াও সেনা কর্মকর্তা লে. আরেফিন, কর্পোরাল নুর আহমদ, সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার সৈয়দ মঈন ও রুহুল আমিন এবং লেন্স কর্পোরাল আবু জাফরের আদালতে সাক্ষ্য প্রদাণ করেন। পরে তাদেরকে আসামী পক্ষের আইনজীবীরা জেরা করেন।

সেনা সদস্যরা সকলেই মেজর সিনহা হত্যার রাতে সেনা সদস্যদের সাথে ওসি প্রদীপের দুর্ব্যবহার ও মেজর সিনহা হত্যাকে পরিকল্পিতভাবে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টার বিষয়টি আদালতে তুলে ধরেন।

মেজর সিনহা হত্যা মামলা বিচারকাজে যুক্ত একাধিক আইনজীবী এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে সকাল সাড়ে ৯টায় কক্সবাজার জেলা কারাগার থেকে মামলার ১৫ আসামিকে প্রিজন ভ্যানে করে কড়া পুলিশ পাহারায় আদালতে আনা হয়।

কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সরকারি কৌশুলী ফরিদুল আলম বলেন, মামলায় সাক্ষ্যদানের জন্য ৮৩ জন সাক্ষীর মধ্যে এ পর্যন্ত ৫৯ জনকে আদালত নোটিশ দিয়েছেন। গত ২৩ আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত ২৫ জনের জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, রোববার পঞ্চম দফায় প্রথম দিনে সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ৯ জন সাক্ষি আদালতে উপস্থিত থাকলেও ৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করতে পেরেছেন আদালত।

আলোচিত এ মামলার ১৫ জন আসামী হলেন- বরখাস্ত হওয়া ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, পরিদর্শক লিয়াকত আলী, কনস্টেল রুবেল শর্মা, এসআই নন্দদুলাল রক্ষিত, কনস্টেবল সাফানুল করিম, কামাল হোসেন, আব্দুল্লাহ আল মামুন, এএসআই লিটন মিয়া ও কনস্টেবল সাগর দেব নাথ। আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) সদস্য এসআই মো. শাহজাহান, কনস্টেবল মো. রাজিব ও মো. আব্দুল্লাহ এবং টেকনাফের বাহারছড়ার মারিষবুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা ও পুলিশের করা মামলার সাক্ষী নুরুল আমিন, মো. নিজাম উদ্দিন ও আয়াজ উদ্দিন।

৩১ জুলাই রাতে টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের শামলাপুর তল্লাশিচৌকিতে মেজর সিনহা নিহত হন। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে তিনটি (টেকনাফে দুটি, রামুতে একটি) মামলা করে। ঘটনার পর গত ৫ আগস্ট কক্সবাজার আদালতে প্রদীপ কুমার দাশ, লিয়াকত আলীসহ ৯ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন মেজর সিনহার বড় বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস।