শুক্রবার, ১৯ আগস্ট ২০২২, ৪ ভাদ্র ১৪২৯

মধুবনে নাচে রাধিকা

প্রকাশিতঃ ১৩ জানুয়ারী ২০২২ | ৯:২৪ পূর্বাহ্ন


শান্তনু চৌধুরী : মানুষ মাত্রই যৌনাকাঙ্ক্ষা রয়েছে। তাই বলে সব মানুষই যে যৌনতায় প্রলুব্ধ হন, তা কিন্তু নয়। এ ক্ষেত্রে অনেকের নানা কারণে অনীহাও রয়েছে। যেমন সঙ্গী বা সঙ্গিনী থাকা সত্ত্বেও যুক্তরাজ্যে প্রতি পাঁচজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির মধ্যে একজনের যৌনতায় অনীহা। এই হার ক্রমে বেড়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি এক গবেষণায় এই তথ্য উঠে এসেছে।

ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য ইনডিপেনডেন্ট-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল সার্ভে অব সেক্সুয়াল অ্যাটিচুডস অ্যান্ড লাইফস্টাইলসের গবেষণায় এতথ্য জানানো হয়েছে। গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যৌনতায় যাঁদের আগ্রহ বেশি, তাঁদের জীবনের প্রত্যাশা, জীবনমান ও আত্মসম্মানবোধ অনেক বেশি হয়। অন্যদিকে যৌনতায় অনাগ্রহের সঙ্গে বিষন্নতা, পারস্পরিক সম্পর্কের অবনতি ও মানসিক চাপকে দায়ী করেছেন গবেষকেরা।

প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন যৌন বিশেষজ্ঞ আলফ্রেড কিনসে ৭০ বছর আগে এ নিয়ে গবেষণা করেছিলেন। ওই গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, প্রাপ্তবয়স্ক সক্ষম ব্যক্তিদের মধ্যে ১৯ শতাংশেরই যৌনতায় বিশেষ আগ্রহ নেই।

ন্যাশনাল সার্ভে অব সেক্সুয়াল অ্যাটিচুডস অ্যান্ড লাইফস্টাইলসের ২০১৩ সালের এক গবেষণায় বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্যের প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকদের মধ্যে যৌনতায় অনাগ্রহ বেশি। মানুষের যৌনতার আগ্রহ নিয়ে সাধারণভাবে যে ধারণা করা হয়, তারা ওই ধারণার অনেক নিচে।

ন্যাশনাল সার্ভে অব সেক্সুয়াল অ্যাটিচুডস অ্যান্ড লাইফস্টাইলসের ২০১৫ সালের আরেক গবেষণায় বলা হয়, গত কয়েক মাসে প্রাপ্তবয়স্ক ৫১ শতাংশ মানুষ যৌনতায় একদম অংশ নেননি। দ্রুত এ ক্ষেত্রে তাঁদের আগ্রহ কমে গেছে। গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, যৌনতায় মানুষের আগ্রহ কমে যাওয়ার মূল কারণ হলো স্বাস্থ্যগত সমস্যা। শারীরিক সমস্যার কারণেই সঙ্গী বা সঙ্গিনী থাকলেও অধিকাংশ মানুষ যৌনতা থেকে দূরে থাকতে চান।

এ ছাড়া হৃদরোগ, বিপাক-সংক্রান্ত সমস্যা, ব্যক্তিত্বের সমস্যা, যৌনতার ক্ষেত্রে নির্যাতন ও স্বল্প ঘুমের কারণেই যৌনতায় অনীহা বেড়ে চলেছে। বলা হয়, যাদের হৃদরোগ আছে, তারা ভাবেন যৌনতার সময় হুট করে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এ ধরনের ভয়ে ভোগেন তারা। এ ছাড়া যারা বিষন্নতা রোধের নিয়মিত ওষুধ খান, ওই ওষুধের প্রতিক্রিয়ায় তাদের যৌন আকাঙ্ক্ষা কমে যায়।

যৌনতায় অনীহার ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের আলাদা হারের প্রসঙ্গে গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, যৌনতার সময় ব্যথা পাওয়া নারীদের সাধারণ সমস্যা। এই ব্যথা পাওয়ার ভয় থেকেই অনেক নারী যৌনতা এড়িয়ে চলার চেষ্টা করেন। এ ছাড়া যৌন নির্যাতনের ভয়, কোনো কারণে যৌন আকাঙ্ক্ষা কমে যাওয়া ও কৈশোরে ঘটে যাওয়া যৌন নির্যাতনের স্মৃতিও নারীদের যৌন অনীহার কারণ। আবার ভ্রূণের ক্ষতির আশঙ্কায় অনেক অন্তঃসত্ত্বা নারী যৌনতা এড়িয়ে চলেন।

আর পুরুষদের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, একদম নিজস্ব কারণেই পুরুষদের যৌনতায় আগ্রহ কমছে। কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে যৌন অক্ষমতা, স্বাস্থ্যগত জটিল সমস্যা ও সুযোগের অভাব। একাকিত্বে ভোগা নারী ও পুরুষেরা একসময় যৌন হতাশায় ভোগেন। আর যাদের সঙ্গী বা সঙ্গিনী চলে যান, তারা একসময় পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত হন। যার পরবর্তী সময়ে নেতিবাচক প্রভাব যৌন আকাঙ্ক্ষা কমিয়ে দেয়। যৌনতায় আগ্রহ না থাকার পেছনে বয়স একটা কারণ। অনেক বয়স্ক ব্যক্তির ধারণা, তারা এতটাই বুড়ো হয়ে গেছেন যে তাদের জন্য আর যৌনতা নয়।

এদিকে, ‘সুপারড্রাগ’ নামক একটি অনলাইন সংস্থা সমীক্ষা চালিয়ে নারী-যৌনতা সম্পর্কিত অবাক করা একটি তথ্য পেশ করেছে। সমীক্ষায় উঠে এসেছে সপ্তাহে একটি নির্দিষ্ট দিনে নারীদের যৌনাকাঙ্ক্ষা প্রবল হয়। অন্যান্য দিনের তুলনায় শনিবার নারীর যৌন ইচ্ছে তীব্রতর হয়। কারণ হিসাবে যা উঠে এসেছে তা হল, শনিবার মানেই সপ্তাহ শেষের ছুটির আমেজ। সারা সপ্তাহ হাড় ভাঙা পরিশ্রমের পর ছুটির দিনগুলিতে প্রিয়জনের স্পর্শ পাওয়ার দুর্নিবার ইচ্ছে বেশি সক্রিয় হয়ে ওঠে মহিলাদের মধ্যে। কোথাও গিয়ে একটা নিশ্চয়তা ও মানসিক শান্তিও কাজ করে। কারণ যৌনতা তো শুধু শারীরিক নয়, তার মানসিক দিকটিও বেশ গুরুত্বপূর্ণ। অবশ্য আমাদের দেশে সেটা হয়তো বৃহস্পতি বা শুক্রবার হবে!

রাতের অন্ধকারে লুকিয়ে ভিনগ্রহ থেকে পৃথিবীতে আসে ওঁরা। যৌন চাহিদা চরিতার্থ করতে মানুষ খোঁজে। কখনও সঙ্গমে লিপ্ত হয়, কখনও আবার শরীর পছন্দ হলে অপহরণ করে নিয়ে যায়। নাহ, স্টিভেন স্পিলবার্গ বা রিডলি স্কটের কোনও সিনেমার কথা হচ্ছে না। সত্যিই এ পৃথিবীতে যৌন চাহিদা মেটাতে আসে এলিয়েনরা। নিজের বইয়ে এমনই দাবি করেছেন জেরোমে ক্লার্ক নামের মার্কিন লেখক।

এবার ভারতে উঠা সম্প্রতি এক কাণ্ড নিয়ে আলোচনা করা যাক। বিষয়টি যৌনতা সংশ্লিষ্টই। সানি লিওনিকে নিয়ে বিতর্ক যেন থামছেই না। এ বার সরাসরি তাকে ‘হুমকি’ দিয়ে বসলেন মধ্যপ্রদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নরোত্তম মিশ্র। কিছু দিন আগেই যার ‘হুমকি’র জেরে বাঙালি পোশাকশিল্পী সব্যসাচী মুখোপাধ্যায়কে একটি বিজ্ঞাপনের ছবি প্রত্যাহার করতে হয়েছিল।

মধ্যপ্রদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নরোত্তম মিশ্র বলেন, সানি লিওনিকে তার নাচের ভিডিয়ো নেটমাধ্যম থেকে সরিয়ে নিতে হবে। ১৯৬০-এ মুক্তিপ্রাপ্ত ‘কোহিনুর’ ছবির জনপ্রিয় গান ‘মধুবন মে রাধিকা নাচে’ গানটির রিমেক ভিডিয়োয় দেখা যায় সানিকে। যা নিয়ে বিতর্ক দানা বেঁধেছে কয়েক দিন ধরেই। যা দেখে ক্ষুব্ধ উত্তরপ্রদেশের মথুরার পুরোহিতরা। তাদের অভিযোগ, রাধার নামে কুরুচিকর গান তৈরি করা হয়েছে।

শুধু তাই নয় মথুরার পুরোহিতদের দাবি, সানির ভিডিয়োটি নিষিদ্ধ করা হোক। এই ভিডিয়ো হিন্দুদের ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করেছে বলে অভিযোগ তুলেছেন পুরোহিতদের একাংশ। এর পরই বিজেপি শাসিত মধ্যপ্রদেশ সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নরোত্তমের এই হুমকি।

শান্তনু চৌধুরী : সাংবাদিক ও সাহিত্যিক।