বৃহস্পতিবার, ৬ অক্টোবর ২০২২, ২১ আশ্বিন ১৪২৯

ডিবি পুলিশের সেই ৭ সদস্যকে ৭ বছর করে কারাদণ্ড

প্রকাশিতঃ ২০ সেপ্টেম্বর ২০২২ | ২:১৮ অপরাহ্ন


কক্সবাজার প্রতিনিধি : কক্সবাজারের টেকনাফের ব্যবসায়ী আবদুল গফুরকে জিম্মি করে ১৭ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনায় করা মামলায় কক্সবাজার জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) বহিষ্কার হওয়া সাত সদস্যকে সাত বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

একই সঙ্গে তাদের প্রত্যেককে ৩ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (২০ সেপ্টেম্বর) বেলা ১২টার দিকে আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করেন কক্সবাজার জেলা দায়রা জজ মোহাম্মদ ইসমাইল।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- কক্সবাজার জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) বহিস্কৃত পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মনিরুজ্জামান ও আবুল কালাম আজাদ, এএসআই ফিরোজ, গোলাম মোস্তফা ও আলাউদ্দিন এবং দুই কনস্টেবল আল আমিন ও মোস্তফা আজম। রায় ঘোষণার সময় আসামিরা এজলাসে উপস্থিত ছিলেন।

বিষয়টি নিশ্চিত রাষ্ট্রপক্ষের কৌশলী ফরিদুল আলম জানান, অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় দণ্ডবিধির ৩৬৫ ধারায় ৫ বছর, ১ লক্ষ টাকা জরিমানা অনাদায়ে ১ বছর, ৩৮৬ ধারায় ৭ বছর ও ২ লক্ষ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ১ বছর কারাদণ্ড প্রদান করেছেন আদালত। তবে উভয় সাজা এক সাথে ভোগ করতে হবে। এ কারণে সাজা ৭ বছর বলে গণ্য হবে।

আদালত সূত্রে জনা যায়, ২০১৭ সালের ২৪ অক্টোবর কক্সবাজার শহরের থানার পেছনের রোড থেকে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে সাদা পোশাকধারী ব্যক্তিরা টেকনাফের ব্যবসায়ী আবদুল গফুরকে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যান। এরপর ‘ক্রসফায়ারে’ মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে তার স্বজনদের কাছে এক কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন। দেনদরবারের পর ১৭ লাখ টাকা দিতে রাজি হয় পরিবার। টাকা পৌঁছে দেওয়া হলে পরদিন ভোররাতে আবদুল গফুরকে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের শামলাপুরে ছেড়ে দেওয়া হয়।

বিষয়টি গফুরের স্বজনেরা সেনাবাহিনীর নিরাপত্তা চৌকির কর্মকর্তাকে জানান। রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা ও ত্রাণ কার্যক্রমের জন্য সেনাবাহিনীর এই নিরাপত্তা চৌকি স্থাপন করা হয়েছিল। মুক্তিপণ আদায়কারী ডিবি পুলিশের সদস্যরা মাইক্রোবাসে মেরিন ড্রাইভ সড়কে এলে চৌকির সেনা সদস্যরা মাইক্রোবাস তল্লাশি করে তাতে ১৭ লাখ টাকা পান। এ সময় ডিবির উপপরিদর্শক (এসআই) মনিরুজ্জামান দৌড়ে পালিয়ে গেলেও বাকি ছয়জনকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করেন সেনা সদস্যরা।

পরে এ ঘটনায় ব্যবসায়ী আবদুল গফুর জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলা তদন্তের দায়িত্ব পায় ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। ঘটনার প্রায় ১০ মাসের মাথায় ২০১৮ সালের আগস্টের প্রথম সপ্তাহে ডিবির সাতজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ পিবিআই।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ফরিদুল আলম জানান, মামলাটির যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে জামিনে থাকা ডিবি পুলিশের ৭ সদস্যের জামিন বাতিল করে কারাগারে প্রেরণ করেন বিচারক। এবং মামলার রায়ের জন্য আজ ২০ সেপ্টেম্বর সময় নির্ধারণ করেন। অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আসামিদের এ রায় প্রদান করেন আদালাত।

এদিন শারীরিক অসুস্থতার কারণে রায় ঘোষণার সময় মামলার বাদি আবদুল গফুর উপস্থিত ছিলেন না। তবে তার বড় ভাই টেকনাফ পৌরসভার কাউন্সিলর মনিরুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন। তিনি জানান, এ রায়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। পাশাপাশি কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয় সেটি প্রমাণ করেছেন আদালত।

পুলিশ সূত্র জানায়, এ ঘটনায় গ্রেপ্তারের পর ডিবির সাত সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। পুলিশের গঠিত তদন্ত কমিটি ডিবির সাত পুলিশের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করার সুপারিশও করে। বিভাগীয় মামলার কার্যক্রমটি এখনো চলমান রয়েছে।