
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে গত ২৪ ঘণ্টায় বিশ্বজুড়ে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়েছে। তবে আগের দিনের তুলনায় কমেছে নতুন শনাক্ত রোগীর সংখ্যা।
গতদিনে সারা বিশ্বে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন প্রায় সাড়ে ১৪শ মানুষ। তাদের নিয়ে মৃতের সংখ্যা ৬৭ লাখ ৩৯ হাজার ছাড়িয়েছে।
একই সময়ে ভাইরাসটি শনাক্ত হয়েছে প্রায় দুই লাখ মানুষের দেহে। এ নিযে বিশ্বব্যাপী আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৬৭ কোটি ২৪ লাখ।
করোনাভাইরাসে আক্রান্ত, মৃত্যু ও সুস্থতার হিসাব রাখা ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটারস থেকে পাওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার সকাল পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় সারা বিশ্বে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ১ হাজার ৪৩৯ জন। অর্থাৎ আগের দিনের তুলনায় মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে ২২১ জন। এতে বিশ্বজুড়ে মৃতের সংখ্যা পৌঁছেছে ৬৭ লাখ ৩৯ হাজার ৫৮ জনে।
একই সময়ে ভাইরাসটি শনাক্ত হয়েছে ২ লাখ ৯ হাজার ৬১১ জনের দেহে। অর্থাৎ আগের দিনের তুলনায় নতুন শনাক্ত রোগীর সংখ্যা কমেছে ৩৮ হাজার। এতে মহামারির শুরু থেকে এ পর্যন্ত ভাইরাসে আক্রান্ত মোট রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৭ কোটি ২৪ লাখ ৯৫ হাজার ৫৯৫ জনে।
গত ২৪ ঘণ্টায় বেশি সংক্রমণের ঘটনা ঘটেছে জাপানে। এই সময়ে মধ্যে দেশটিতে নতুন করে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৯৬ হাজার ৩৯২ জন এবং মারা গেছেন ৪৫১ জন। করোনা মহামারির শুরু থেকে পূর্ব এশিয়ার এই দেশটিতে এখন পর্যন্ত ৩ কোটি ১৮ লাখ ১৯ হাজার ৩১০ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন এবং ৬৪ হাজার ২২০ জন মারা গেছেন।
লাতিন আমেরিকার দেশ ব্রাজিল করোনায় আক্রান্তের দিক থেকে চতুর্থ ও মৃত্যুর সংখ্যায় তালিকার দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৪৮০ জন এবং নতুন করে সংক্রমিত হয়েছেন ১৫ হাজার ৯২২ জন। অপরদিকে মহামারির শুরু থেকে এ পর্যন্ত দেশটিতে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৩ কোটি ৬৭ লাখ ১৩ হাজার ৬ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ৬ লাখ ৯৬ হাজার ১৪৮ জনের।
যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ২০ হাজার ৪২৮ জন এবং মারা গেছেন ১৬০ জন। করোনাভাইরাসে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এই দেশটিতে এখন পর্যন্ত ১০ কোটি ৩৮ লাখ ৩ হাজার ৪৮৩ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন এবং ১১ লাখ ২৮ হাজার ২১৭ জন মারা গেছেন।
দক্ষিণ কোরিয়ায় নতুন করে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ২৯ হাজার ৮১৬ জন এবং মারা গেছেন ৪৭ জন। ফ্রান্সে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৪ হাজার ৯৯২ জন এবং মারা গেছেন ৬৪ জন, ডেনমার্কে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ১৩০ জন এবং মারা গেছেন ১৪ জন, রাশিয়ায় নতুন সংক্রমিত হয়েছেন ৫ হাজার ৯১৪ জন এবং মারা গেছেন ৪০ জন।
২০১৯ সালের ডিসেম্বরের শেষ দিকে চীনের উহান শহরে প্রথম করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। সেখানে তাণ্ডব চালানোর পর ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বের দুই শতাধিক দেশ ও অঞ্চলে। তালিকা থেকে বাদ যায়নি বাংলাদেশও। ২০২০ সালের মার্চের দিকে বাংলাদেশে তিনজনের শরীরে করোনা সংক্রমণ ধরা পড়ে।
বিশ্বজুড়ে করোনার তাণ্ডব চলার মধ্যে ২০২০ সালের ২০ জানুয়ারি বিশ্বজুড়ে জরুরি পরিস্থিতি ঘোষণা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। প্রায় দুই মাস পর একই বছরের ১১ মার্চ করোনাকে ‘বৈশ্বিক মহামারি’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
দীর্ঘদিন তাণ্ডব চালানোর পর এখন সারা বিশ্বে ভাইরাসটি প্রাদুর্ভাব অনেকটা কমে এলেও এখনও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি।