সোমবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ৬ মাঘ ১৪৩২

বিচারকের চাকরি খাওয়ার হুমকি এমপি কমলের, আইনজীবীদের প্রতিবাদ

| প্রকাশিতঃ ১৪ মার্চ ২০২৩ | ২:৫৬ অপরাহ্ন


কক্সবাজার প্রতিনিধি : একজন শিক্ষককে জেলে যেতে হলে বিচারককে ‘ভাত খেতে দেবেন না’ ও ‘চাকরি করতে দেবেন না’ বলে হুমকি দিয়েছিলেন কক্সবাজার সদর আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) সাইমুম সরওয়ার কমল। এ নিয়ে একুশে পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর এমপির এই ‘কুরুচিপূর্ণ’ বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে মানববন্ধন করেছেন কক্সবাজারের আইনজীবীরা।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে কক্সবাজারের আদালত পাড়ায় ‘সাধারণ আইনজীবীবৃন্দ, কক্সবাজার’ ব্যানারে উক্ত মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, কোনো মামলায় গরমিল দেখলে একজন এমপি হিসেবে জেলা জজ মহোদয়কে বলে বিচার বিভাগীয় তদন্ত চাইতে পারতেন তিনি। এটাই ছিল সঠিক পথ। কিন্তু খলনায়ক ও গডফাদারের ভাষায় তিনি আদালত ও বিচারককে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেন। সস্তা জনপ্রিয়তা নিতে তা আবার রেকর্ড করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে। এটা সাধারণ মানুষের কাছে আদালত ও বিচারককে প্রশ্নবিদ্ধ করার শামিল। এ ঘটনায় বিচার বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া জরুরি।

মানববন্ধনে আরও বলা হয়, শিক্ষকদের নিয়ে এত দরদ দেখানো এমপি সাইমুম সরওয়ার কমলের বিরুদ্ধে এলাকার অবসর নেয়া প্রবীণ শিক্ষককে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ আছে। লাঞ্ছনার শিকার শিক্ষক সুনীল কুমার শর্মা সংসদ সদস্য কমলকে শিশুকালে পড়িয়েছেন।

মানববন্ধন দাবি করা হয়, স্বাধীন বিচার বিভাগের বিরুদ্ধে একজন আইন প্রণেতার উদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্য বিচার বিভাগের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থার সংকট তৈরি করবে। তাই এমপি কমলকে তার বক্তব্যের জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে অবিলম্বে তা প্রত্যাহার করতে হবে।

আইনজীবী মাহবুবুর রহমানের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, সিনিয়র আইনজীবী আমির হোছাইন, নুর মুহাম্মদ মামুন, খোরশেদ আলম, নুরুল ইসলাম নুরু, মাহবুবুর রহমান, আবদুর রহিম, রিদুয়ান আলী ও মুহাম্মদ শাহীন প্রমুখ।

মানববন্ধনে কক্সবাজারের শতাধিক আইনজীবী অংশগ্রহণ করেন।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে এমপি সাইমুম সরওয়ার কমলের মোবাইলে একাধিকবার কল দেয়া হয়; রিং হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

এর আগে গত ১২ মার্চ ‘বিচারককে ভাত খেতে দেবেন না, চাকরি করতে দেবেন না এমপি কমল (ভিডিও)’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে একুশে পত্রিকা।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, এমপি সাইমুম সরওয়ার কমল বলেছেন, রামুর একজন শিক্ষক। নাম জসিমউদ্দিন। তার বিরুদ্ধে দ্রুতবিচার আইনে মামলা হয়েছে। আমি জজ সাহেবের সঙ্গে কথা বলেছি। দ্রুত বিচার, ঘটনা মিথ্যা, কোনো ঘটনা নেই। জমি নিয়ে গণ্ডগোল। সেখানে কোনো মারামারি হয়নি। কোনো ভিডিও ফুটেজ নেই। কোনো সাক্ষী নেই। কিন্তু একজন পেশকার একজন জজকে ম্যানেজ করে একটা দ্রুত বিচার আইনে মামলা দিয়েছে।

বক্তব্যে আরো বলেন, ইনশাআল্লাহ আমি বেঁচে থাকতে তাকে (ওই শিক্ষককে) জেলে যেতে দেব না। তাকে যদি জেলে যেতে হয়, তা হলে আমি বেঁচে থাকতে যে জজ সাহেব মিথ্যা মামলা করেছে, তাকে আমি জীবনে ভাত খেতে দেব না। তাকে আমি চাকরি করতে আর দেব না। এই আমার কথা।

এমপি কমলের এই বক্তব্য বিচার বিভাগকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেওয়া ও আদালত অবমাননার শামিল বলে মন্তব্য করেছেন আইনজীবীরা।