মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি ২০২৬, ৭ মাঘ ১৪৩২

‘সরকার ধসে পড়েছে, নদীর জোয়ার বাঁধ দিয়ে থামানো যায় না’

| প্রকাশিতঃ ১৬ ডিসেম্বর ২০২৩ | ৬:৫৫ অপরাহ্ন


চট্টগ্রাম : বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান বলেছেন, ‘সরকার ধসে পড়েছে। আমরা যদি সংগঠিত ও ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যেতে পারি সফলতা আসবে। আমরা জয়ের মুখোমুখি। বিজয় অর্জনের প্রাক্কালে।’

শনিবার (১৬ ডিসেম্বর) সকালে নগরীর এনায়েত বাজার মোড়ে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির উদ্যোগে মহান বিজয় দিবসের বিজয় র‍্যালী পূর্ব সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, ‘নদীর জোয়ার বাঁধ দিয়ে থামানো যায় না। আজ প্রশাসন আমাদের সঙ্গে যে আচরণ করল একটি মাইকও বাঁধতে দিল না। এটা দ্বারা কি প্রমাণিত হয়। শহীদের রক্তাক্ত সংগ্রামে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি, লড়াই করছি। বালির বাঁধ ভেঙে আমরা জোয়ারের বাঁধ গড়ে তুলেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আজ এখানে নবতর উপায়ে সংগ্রাম শুরু করব। সে সংগ্রামে লড়াই হবে শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে এক দফা আন্দোলনের। আমরা চাই দেশের জনগণের ক্ষমতা জনগণকেই ফিরিয়ে দিতে। জনগণকে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য কারাগারের ভেতরে এবং বাইরে লড়াই করে যাচ্ছি।’

‘আমাদের এ লড়াই খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার লড়াই। এ লড়াই দেশের জনগণের কণ্ঠ রোধ করে আমাদের সর্বক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করছে তার বিরুদ্ধে। সে বাধাকে উপেক্ষা করে আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যাব। আমরা সরকারকে এটা বলতে চাই, বালির বাঁধ কখনও টিকবে না। জোয়ারের পানি এগিয়ে যাবে।’

ফখরুল ইসলাম আলমগীর, মির্জা আব্বাসসহ সকল রাজবন্দীদের মুক্তি চেয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের দলের নেতা আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী কারাগারে আছেন। আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নিঃশর্ত মুক্তি চাই। না হলে কারাগার ভেঙে আমরা তাকে মুক্ত করব। আমাদের নেতা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, মির্জা আব্বাসসহ সকল রাজবন্দিদের মুক্তি চাচ্ছি। এ মুক্তি আন্দোলনের মধ্যে করতে হবে। এ সরকারের কাছে চাওয়ার কিছু নেই।’

‘আমরা সরকারের ষড়যন্ত্র রুখতে পেরেছি। সে ষড়যন্ত্রের প্রেক্ষিতে আজ এখানে মাইক নেই, স্টেজ নেই। জনগণের দাঁড়াবার কোনো সুযোগ নেই। আমরা সে সুযোগ আন্দোলন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে নিয়ে আসব।’

বিএনপির এ নেতা বলেন, ‘চট্টগ্রামে আমাদের অনেক ভাই, অনেক ছেলে কারাগারের মধ্যে আছে। আমরা তাদেরকে মুক্ত করে আনব। আমরা তাদের সবাইকে মুক্ত করে দেশের গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করব ও জনগণের ক্ষমতা তাদের কাছে ফিরিয়ে দেব। বিজয় দিবসে এটাই আমাদের কামনা।’

নগর বিএনপির আহ্বায়ক শাহাদাত হোসেনের সভাপতিত্বে ও যুগ্ম আহ্বায়ক ইয়াছিন চৌধুরী লিটনের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য রাখেন চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এস এম ফজলুল হক, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম, শ্রম সম্পাদক এ এম নাজিম উদ্দীন, নগরের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম ও সদস্য সচিব আবুল হাশেম বক্কর।

এদিকে নগরীর মিউনিসিপ্যাল মডেল স্কুলের অস্থায়ী শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে আবদুল্লাহ আল নোমান সাংবাদিকদের বলেন, ‘সরকার বার বার চেষ্টা করেছে আমাদের সব কর্মসূচি ব্যর্থ করে দেওয়ার জন্য। কিন্তু একটি কর্মসূচিও ব্যর্থ হয়নি। বরং কর্মসূচিগুলো অসাধারণ হয়েছে। সে সফল কর্মসূচি নিয়ে আমরা এগিয়ে যাব। যতক্ষণ পর্যন্ত আমাদের একদফা আন্দোলনের কায়েম না হবে ততদিন আমাদের সংগ্রাম চলবে। সরকারের পক্ষ থেকে নির্বাচনের আগে কোনো প্রোগ্রাম হোক সেটা তারা চাই না।’

৭ তারিখ নির্বাচন হলে এরপর বিএনপির করণীয় সম্পর্কে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনে তো আমরা নেই। আন্দোলন সফল হচ্ছে, সফল হবে।’