
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : জর্ডানে সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন হামলায় ৩ মার্কিন সেনা নিহতের প্রতিশোধ নিতে ইরাক ও সিরিয়ায় ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড বাহিনী ও তাদের সঙ্গে সম্পর্কিত মিলিশিয়াদের ৮৫ লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এ হামলা সফল হয়েছে বলে দাবি করেছে হোয়াইট হাউস।
স্থানীয় সময় শুক্রবার এ বিষয়ে ব্রিফিংয়ে করেন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের মুখপাত্র জন কিরবি।
এ সময় তিনি সাংবদিকদের বলেন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রেরিত বি-১ বোমারু বিমানসহ অসংখ্য বিমান এই অপারেশনে অংশ নেয়। এসব বিমানে ১২৫টিরও বেশি নির্ভুল নির্দেশিত যুদ্ধাস্ত্র বহন করা হয়। পুরো অপারেশনে সময় লেগেছে মাত্র ৩০ মিনিট।
কিরবি বলেন, টার্গেট করা স্থাপনার মধ্যে রয়েছে কমান্ড ও কন্ট্রোল সেন্টার, সদর দপ্তর ভবন ও গোয়েন্দা অফিস। এছাড়াও রকেট, মিসাইল, ড্রোনসহ অস্ত্র এবং রসদ গুদামেও হামলা চালানো হয়। তবে এই লক্ষ্যবস্তুগুলোতে বেসামরিক হতাহতের ঘটনা এড়াতে যথাসম্ভব সাবধান ছিল মার্কিন বাহিনী।
এদিক আগামীতে এই ধরনের প্রতিশোধমূলক হামলার সময় সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে- কিরবি বলেন, ‘ওয়াশিংটন কখনো ভবিষ্যত পরিকল্পনা প্রকাশ করে না। তবে আগামী দিনগুলোতে আরও হামালা চালানো হবে।’
কিরবি আরও বলেন, ‘প্রতিরক্ষা বিভাগ এই হামলার ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়নের প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে, কিন্তু আমরা বিশ্বাস করি যে হামলা সফল হয়েছে।’
প্রসঙ্গত, সিরিয়া সীমান্তবর্তী জর্ডানের একটি সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন হামলায় ৩ মার্কিন সেনা নিহত এবং আরও ৪০ জনেরও বেশি সেনা আহত হওয়ার পর এই প্রতিশোধ নেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।
প্রতিশোধমূলক হামলার পর বিবৃতিতে বাইডেন বলেন, ‘আমার নির্দেশনায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ইরাক ও সিরিয়ায় ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড বাহিনী ও তাদের সহযোগী গোষ্ঠীগুলোর লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করেছে।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রতিক্রিয়া আজ থেকে শুরু হলো। আমাদের পছন্দমতো সময়ে ও জায়গায় এটি চলতে থাকবে।’
গত ১ ফেব্রুয়ারি সিরিয়া ও ইরাকে অবস্থিত ইরানের বিভিন্ন অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলার পরিকল্পনার অনুমোদন দেয় যুক্তরাষ্ট্র।