সোমবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ৬ মাঘ ১৪৩২

চট্টগ্রাম কলেজে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষ, পুলিশের লাটিচার্জ

| প্রকাশিতঃ ১৬ অক্টোবর ২০১৭ | ৬:২৫ অপরাহ্ন

চট্টগ্রাম: আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম কলেজে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। সোমবার সকালে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলে। পরে পুলিশ দুই দফা লাটিচার্জ করে দুই পক্ষকে সরিয়ে দেয়। এ ঘটনায় অন্তত পাঁচ শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।

আহতরা হলেন- চট্টগ্রাম কলেজের স্নাতকোত্তর শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী গিয়াস উদ্দিন (২৬) ও স্নাতক শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী রাহুল শীল (২৪) এবং হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজের স্নাতক প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী হানিফ সুমন (২০) ও উচ্চ মাধ্যমিক প্রথম বর্ষের আল রিয়াদ (১৮)। এছাড়া চট্টগ্রাম কলেজ সংলগ্ন মহসিন কলেজের অ্যাকাউন্টিং চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আনোয়ার পলাশও সংঘর্ষে আহন হন।

সংঘর্ষে জড়ানো দুইপক্ষের একটির নেতৃত্বে আছেন চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগ নেতা মাহমুদুল করিম এবং অন্যটির নেতৃত্বে সুভাষ মল্লিক সবুজ। এদের মধ্যে সুভাষ যুবলীগ নেতা নূর মোস্তফা টিনুর অনুসারী। আর মাহমুদুল করিম নগর ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রনির অনুসারী। চট্টগ্রামের রাজনীতিতে টিনু প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসির এবং রনি নগর আওয়ামী লীগ সভাপতি এবিএমমহিউদ্দিন চৌধুরীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, গত রোববার কলেজ ক্যাম্পাসে সম্মান (স্নাতক) শ্রেণির প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন উপলক্ষে ব্যানার টাঙ্গানো নিয়ে দুই পক্ষে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এর জের ধরে সোমবার সকাল ১০টার দিকে সুভাষ মল্লিকের অনুসারীদের একজন কলেজের মূল ফটক সংলগ্ন ব্যাংকের কাছে এলে তাকে অপর পক্ষের ছেলেরা মারধর করে। এরপর থেকে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে দুই পক্ষের মধ্যে। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে দুই পক্ষই মুখোমুখি হয়ে পড়ে। পরে পুলিশ ধাওয়া দিয়ে দুই পক্ষকে সরিয়ে দেয়। এরপর বেলা পৌনে ১২টার দিকে সুভাষ মল্লিকের নেতৃত্বে তার অনুসারীরা লাঠি নিয়ে কলেজ রোডে কয়েক দফা মিছিল করে। পুলিশ তাদের কাছ থেকে লাঠি কেড়ে নিয়ে সরিয়ে দেয়। পরে সুভাষের অনুসারীরা আবার কলেজের পশ্চিম গেইটের কাছে জড়ো হলে পুলিশ ধাওয়া দিয়ে তাদের চকবাজারের দিকে সরিয়ে দেয়। বেলা সোয়া ১২টার দিকে মাহমুদুল করিমের অনুসারীরা মিছিল নিয়ে একই এলাকায় আসতে চাইলে পুলিশ লাঠিপেটা করে।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক জহিরুল ইসলাম বলেন, চট্টগ্রাম কলেজে সংঘর্ষের ঘটনায় আহত হয়ে কলেজটির চার শিক্ষার্থী হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন। তবে তাদের আঘাত তেমন গুরুতর নয়।

চকবাজার থানার ওসি নুরুল হুদা বলেন, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মূলত এই ঘটনা ঘটেছে। রোববারও তাদের মধ্যে ঘটনা ঘটে। দুই পক্ষ আবারও মুখোমুখি হলে তাদেরকে পুলিশ সরিয়ে দিয়েছে।