মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি ২০২৬, ৭ মাঘ ১৪৩২

কর্ণফুলী উপজেলায় আনন্দ শোভাযাত্রা শনিবার

| প্রকাশিতঃ ২৪ নভেম্বর ২০১৭ | ৭:৩৭ অপরাহ্ন

মোর্শেদ নয়ন : সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, স্বাধীন বাংলাদেশের মহান স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান এর ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ ইউনেস্কোর ‘মেমোরি অব দ্যা ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল’ এর রেজিস্টারে অন্তর্ভূক্তির মাধ্যমে ‘বিশ্বপ্রামাণ্য ঐতিহ্য’ হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করায় আনন্দ শোভাযাত্রার করবে কর্ণফুলী উপজেলা প্রশাসন।

আগামীকাল শনিবার (২৫ নভেম্বর) বাঙ্গালী জাতির অসামান্য এই অর্জনকে উদযাপন করতে আনন্দ শোভাযাত্রা সকাল ১০.০০ টায় ফকিরনীর হাট রাস্তার মোড় থেকে শুরু হবে। এছাড়াও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান এর ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ সম্প্রচার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হবে বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

এ বিষয়ে কর্ণফুলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বিজেন ব্যানার্জী একুশে পত্রিকাকে বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ ‘বিশ্বের প্রামাণ্য ঐতিহ্য’ হিসেবে স্বীকৃতি জাতির জন্য একটি বিরাট অর্জন। এই অর্জনকে উদযাপন করতে শনিবার কর্ণফুলী উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক কর্মসূচী নেওয়া হয়েছে।’

অনুষ্ঠানকে সফল ও সার্থক করতে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সকল সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারি, ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, সাংস্কৃতিক কর্মী ও মিডিয়া কর্মীদের স্ববান্ধব অংশগ্রহণ এবং সকলের সহযোগিতা কামনা করেন ইউএনও বিজেন ব্যানার্জী।

উল্লেখ্য, জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা ইউনেস্কো তাদের মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড (এমওডব্লিউ) কর্মসূচির ইন্টারন্যাশনাল অ্যাডভাইজরি কমিটি গত ২৪ থেকে ২৭ অক্টোবর প্যারিসে দ্বিবার্ষিক বৈঠক শেষে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণসহ ২০১৬ ও ২০১৭ সালে আসা প্রস্তাবগুলোর মধ্যে মোট ৭৮টি দলিলকে এবার ‘ডকুমেন্টারি হেরিটেজ’ হিসেবে ‘মেমোরি অফ দা ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল রেজিস্টারে’ যুক্ত করার সুপারিশ দেয়। এরপর মহাপরিচালক ইরিনা বোকোভা ওই সুপারিশে সম্মতি দিয়ে বিষয়টি ইউনেস্কোর নির্বাহী পরিষদে পাঠিয়ে দেন এবং আনুষ্ঠানিকভাবে সেই তথ্য প্রকাশ করেন।

‘ডকুমেন্টারি হেরিটেজ’ হল সেই সব নথি বা প্রামাণ্য দলিল, বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে যার ঐতিহ্যগত গুরুত্ব আছে। আর সেসব ঐতিহ্যের তালিকা হল ‘মেমোরি অফ দা ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল রেজিস্টার’। এসব দলিল সংরক্ষণের পাশাপাশি বিশ্বের মানুষ যাতে এ বিষয়ে জানতে পারে, সে জন্যই ১৯৯২ সালে এ কর্মসূচি শুরু করে ইউনেস্কো। এতদিন এই তালিকায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মোট ৪২৭টি নথি ও প্রামাণ্য দলিল ছিল। কোন দলিল বা নথি এই তালিকায় স্থান পাবে তা পরীক্ষা ও মূল্যায়নের দায়িত্বে রয়েছে ১৫ জন বিশেষজ্ঞকে নিয়ে গঠিত এমওডব্লিউ কর্মসূচির ইন্টারন্যাশনাল অ্যাডভাইজরি কমিটি। সংযুক্ত আরব আমিরাতের ন্যাশনাল আর্কাইভের মহাপরিচালক আবদুল্লাহ আলরাইজি বর্তমানে এর চেয়ারম্যান।