চট্টগ্রাম: বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণকে ‘পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ ভাষণ ও রাজনীতির মহাকাব্য’ উল্লেখ করার পাশাপাশি দিনটিকে জাতীয় দিবস হিসেবে ঘোষণার দাবি জানানো হয়েছে এক সভায়।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান এর ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ ‘বিশ্বপ্রামাণ্য ঐতিহ্য’ হিসেবে স্বীকৃতি উদযাপন উপলক্ষে শনিবার কর্ণফুলী উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত আনন্দ শোভাযাত্রার পরবর্তী সভায় বক্তারা এ দাব জানান।
বক্তারা বলেন, বঙ্গবন্ধুর দীপ্ত কন্ঠের কালজয়ী এই ভাষণ কেবল বাঙালীর জাতিকে আলোড়িত করেনি, বিশ্ব বিবেককেও নাড়া দিয়েছে। যুগে যুগে যত সংগ্রাম হবে, বিশ্ববাসী স্মরণ করবে এই ঐতিহাসিক ভাষণকে। ইউনেস্কোর এ স্বীকৃতি তারই প্রমাণ। বক্তারা আরো বলেন-বঙ্গবন্ধু ৭ মার্চের ভাষণের প্রতিটি পংক্তিতে হাজারো বছরের বাঙালি জাতির শোষণ বঞ্চনার ইতিহাস তুলে ধরার পাশাপাশি তাদের মুক্তি ও স্বাধীনতার সুষ্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন।
নিরস্ত্র বাঙালি জাতিকে একটি মাত্র ভাষণে সশস্ত্র জাতিতে পরিণত করেছেন। খলনায়করা ক্ষমতায় এসে বার বার বঙ্গবন্ধুকে ছোট করার চেষ্টা করেছে। এই ভাষণকে তারা নিষিদ্ধ করেছিল। ভয় হয়, ওই দানবের দল কোনদিন ক্ষমতায় আসে তবে আবারও নিষিদ্ধ হয়ে যাবে ঐতিহাসিক এই ভাষণ, বন্ধ করে দেবে বঙ্গবন্ধুর কন্ঠ। তাই সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ওই দানবের দলকে অবশ্যই পরাজিত করতে হবে।
শোভাযাত্রা শেষে এ.জে চৌধুরী কলেজ মিলনায়নে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপত্বি করেন কর্ণফুলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার(ইউএনও) বিজেন ব্যানার্জী। বক্তব্য রাখেন কর্ণফুলী উপজেলা চেয়ারম্যান ফারুক চৌধুরী, কর্ণফুলী উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি ছৈয়দ জামাল আহমদ, সাধারণ সম্পাদক হায়দার আলী রনি, ভাইস চেয়ারম্যান দিদারুল ইসলাম চৌধুরী, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান বানাজা বেগম, মুক্তিযোদ্ধা এমএন ইসলাম, কর্ণফুলী থানার ওসি ছৈয়দুল মোস্তাফা, চরলক্ষ্যা ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী, চরপাথরঘাটা ইউপি চেয়ারম্যান ছাবের আহমদ, জুলধা ইউপি চেয়ারম্যান রফিক আহমদ, বড় উঠান ইউপি চেয়ারম্যান দিদারুল ইসলাম, শিকলবাহা ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম প্রমুখ।
এর আগে সকাল ১০টায় বাঙ্গালী জাতির অসামান্য এই অর্জনকে উদযাপন করতে বর্ণিল আনন্দ শোভাযাত্রা ফকিরনীর হাট রাস্তার মোড় থেকে শুরু হয়ে এ.জে চৌধুরী কলেজ প্রাঙ্গনে শেষ হয়।
সরকারী নিদের্শনায় জাতির এই অসামান্য অর্জনকে উদযাপনে আনন্দ শোভাযাত্রায় উপজেলার সরকারি-বেসরকারি দফতর, স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান, কলেজ, স্কুলের শিক্ষার্থীরা এবং হাজারো লোকজন ব্যানার, ফেস্টুন নিয়ে উপস্থিত হয়। যাদের সকলের হাতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণের তাৎপর্য নিয়ে লেখা পতাকা। এছাড়া ব্যান্ড দলও আনন্দ শোভাযাত্রায় অংশ নিতে দেখা গেছে।
সভা শেষে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান এর ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ সম্প্রচার, ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয় ।