
একুশে পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশের পর দক্ষিণ পাহাড়তলীতে অবৈধভাবে পাহাড় কাটার বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে হাটহাজারী উপজেলা প্রশাসন। বুধবার গভীর রাতে চালানো এই অভিযানে একজনকে খননযন্ত্রসহ আটক করে এক লাখ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
তবে, যে প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে রাতের আঁধারে পাহাড় কেটে মাটি বিক্রির অভিযোগ উঠেছিল, তারা ধরাছোঁয়ার বাইরেই রয়ে গেছে।
হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবিএম মশিউজ্জামানের নেতৃত্বে বুধবার রাত ১১টার দিকে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ১ নম্বর দক্ষিণ পাহাড়তলী ওয়ার্ডের নন্দীরহাটের পশ্চিম অংশে এই অভিযান পরিচালিত হয়।
অভিযানকালে নোয়াখালীর চৌমুহনী এলাকার শের আলীর ছেলে মো. নোমান সিদ্দিকীকে একটি এক্সকেভেটর (খননযন্ত্র) দিয়ে পাহাড় কাটার সময় হাতেনাতে আটক করা হয়।
ইউএনও মশিউজ্জামান বলেন, “আটক ব্যক্তি দোষ স্বীকার করে নেওয়ায় তাকে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ অনুযায়ী এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এই অপরাধের সঙ্গে জড়িত অন্যদের বিরুদ্ধে পরিবেশ অধিদপ্তর নিয়মিত মামলা দায়ের করবে।”
অভিযানে পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম কার্যালয়ের একটি দল ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। পরিবেশ অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা জানান, একুশে পত্রিকার প্রতিবেদনটি পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের নজরে আসার পর মূলত তার নির্দেশেই তাৎক্ষণিক এই অভিযান পরিচালিত হয়।
স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, অভিযানের খবর পেয়ে যাওয়ায় পাহাড় কেটে মাটি বিক্রির সঙ্গে জড়িত মূল হোতারা আগেই সটকে পড়ে।

এর আগে গত ২০ এপ্রিল ‘একুশে পত্রিকায়’ “দক্ষিণ পাহাড়তলীতে রাতের আঁধারে পাহাড় সাবাড়, নির্বিকার প্রশাসন?“ শিরোনামে একটি সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
ওই প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়, সিটি করপোরেশনের ১ নম্বর দক্ষিণ পাহাড়তলী ওয়ার্ডের মাহমুদাবাদ এলাকায় গত প্রায় দুই মাস ধরে রাতের আঁধারে একটি প্রভাবশালী চক্র পাহাড় কেটে মাটি বিক্রি করছে। মাহমুদাবাদের পশ্চিমে আলী (র.) দরগাহর কাছাকাছি এলাকায় খননযন্ত্র দিয়ে পাহাড়ের বড় অংশ কেটে রাস্তা তৈরি ও মাটি বিক্রি করা হচ্ছিল। এতে পাহাড়ের একটি অংশ বিলীন হয়ে গেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রতিদিন সন্ধ্যা থেকে ভোর পর্যন্ত ৮-১০টি ড্রাম ট্রাকে করে কাটা মাটি বিভিন্ন স্থানে বাড়িঘর বা কবরস্থান ভরাটের জন্য প্রতি ট্রাক ২৪০০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। এনাম সওদাগর, নেজাম উদ্দিন, শাহনেওয়াজ, ফোরকান, কাশেম সওদাগরসহ স্থানীয় ১৪-১৫ জনের একটি সিন্ডিকেট এর সঙ্গে জড়িত বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এছাড়া ‘মাটি মনসুর’ নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধেও মাটি ব্যবসার অভিযোগ তোলা হয়।
স্থানীয়দের বরাতে প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, প্রশাসন ও পুলিশকে ‘ম্যানেজ’ করে এবং রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় দীর্ঘদিন ধরেই এই এলাকায় পাহাড় কাটার ব্যবসা চলছে। অভিযুক্ত এনাম সওদাগর অবশ্য পাহাড় কাটার অভিযোগ অস্বীকার করে কবরস্থান ভরাটের জন্য নিচু বা ধানি জমি কাটা হচ্ছে বলে দাবি করেছিলেন।
ইউএনও এবিএম মশিউজ্জামান জানিয়েছেন, পরিবেশ রক্ষায় প্রশাসনের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।