
‘বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে আদিবাসী বিতর্ক ও বাস্তবতা’ শীর্ষক এক সেমিনারে বক্তারা অভিযোগ করেছেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত বাঙালিরাই এখন প্রকৃত অর্থে বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন এবং পার্বত্য শান্তিচুক্তির মাধ্যমে এই বৈষম্যকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া হয়েছে।
আজ শুক্রবার (৮ আগস্ট) চট্টগ্রাম নগরীর মেট্রোপলিটন হাসপাতাল হল রুমে ‘পাঠশালা-সিএইচটি রিসার্চ সেল’ এর আয়োজনে দিনব্যাপী এই সেমিনার ও কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৈয়ব চৌধুরী বলেন, “আমাদের আন্দোলন মূলত অধিকার আদায়ের জন্য। আমরা বৈষম্যহীন বাংলাদেশ চাই, যেখানে সব নাগরিক সমান সুযোগ পাবে। পাহাড়ে চাঁদাবাজি, অস্ত্র জমা না দেওয়া, লাইসেন্সধারীদের দৌরাত্ম্য চলছে। শান্তিচুক্তির পরও শান্তি আসেনি, বরং একটি গোষ্ঠী সুবিধা ভোগ করছে”।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আলী হোছাইন বলেন, “পার্বত্য শান্তিচুক্তির আড়ালে পার্বত্য চট্টগ্রামকে একটি স্বতন্ত্র রাষ্ট্রে রূপান্তরের ভিত্তি স্থাপন করা হয়েছে। সেখানে যেভাবে কৌশলে উপজাতিদের খ্রিস্টান ধর্মে রূপান্তরিত করা হচ্ছে, তাতে ভবিষ্যতে তারা আলাদা রাষ্ট্রের দাবি করতে পারে। এটি একটি সুপরিকল্পিত বিচ্ছিন্নতার প্রচেষ্টা”।
চট্টগ্রামের বিশিষ্ট সাংবাদিক আবু বকর বলেন, “পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত বাঙালিরাই আজ প্রকৃত অর্থে বৈষম্যের শিকার। প্রশাসনিক পদে উপজাতিদের অগ্রাধিকার দেখা যায়, যেখানে বাঙালিদের কার্যকর অংশগ্রহণের সুযোগ নেই বললেই চলে”।
সভাপতির বক্তব্যে পাঠশালার সাবেক ছাত্রনেতা মুহাম্মদ কাউছার উল্লাহ বলেন, “পাহাড়ে বাঙালিরা বছরের পর বছর মানসিকভাবে নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তিতে বলা হয়েছে সকল চাকরিতে আদিবাসীরা অগ্রাধিকার পাবে। ফলে, বাঙালিরা বৈষম্যের শিকার হচ্ছে প্রতিনিয়ত। আমরা চাই এই শান্তিচুক্তি সংস্কার হোক”।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান, সাবেক ছাত্রনেতা তৌহিদুল ইসলাম এবং প্রকৌশলী আবুল কালাম। আলোচনা সভা শেষে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক কুইজ প্রতিযোগিতায় বিজয়ী ২০ জনকে পুরস্কার প্রদান করা হয়, যেখানে প্রথম স্থান অধিকার করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী তামান্না জান্নাত প্রিয়া।