
চট্টগ্রামের আনোয়ারায় বাজারকেন্দ্রিক আধিপত্য ও চাঁদাবাজির অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল প্রকাশ্যে রূপ নিয়েছে। দলের চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা শাখার সদস্য সচিব লায়ন হেলালের অনুসারী হিসেবে পরিচিত দুটি পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, দোকান ভাঙচুর ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগের ঘটনায় চাতরী চৌমুহনী বাজার এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) রাত সাড়ে নয়টার দিকে। এ নিয়ে বুধবার দিনভর উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চলে।
উপজেলা যুবদল নেতা নুরুল কবির রানা অভিযোগ করেন, তিনি সম্প্রতি চাতরী চৌমুহনী বাজারের চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ফেসবুকে লাইভ করেন। এর জের ধরে বাজারের ইজারাদার ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য জাকির আহমদের লোকজন তার ভাগিনার দোকানে হামলা ও ভাঙচুর চালায়।
নুরুল কবির রানা বলেন, “আমি ফেসবুক লাইভে বলেছিলাম, চাঁদাবাজি না করে ভিক্ষা করো, ভিক্ষা দেব। এই কথায় ক্ষিপ্ত হয়ে জাকির, স্বেচ্ছাসেবক লীগ থেকে আসা মনসুর মেম্বার ও বহিরাগত সন্ত্রাসীরা আমার ভাগিনা রাশেদ ইকবালের দোকানে হামলা চালায় এবং আমার কর্মীদের রামদা দিয়ে ধাওয়া করে। এর সিসিটিভি ফুটেজও আছে।”
অন্যদিকে, সব অভিযোগ অস্বীকার করে বাজারের ইজারাদার জাকির আহমদ পাল্টা অভিযোগ তুলেছেন। তিনি বলেন, “রানা মাছ বাজারের আধিপত্য নিতে আমার লোক মোরশেদকে বাড়িতে গিয়ে মারধর করেছে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আমার লোকজন রাশেদের দোকানে গিয়ে সামান্য হাতাহাতি করে। খবর পেয়ে আমি নিজেই রাশেদকে ক্ষতিপূরণ দিয়েছি।”
জাকির আরও বলেন, “বাজার ইজারা নেওয়ার সময় আমি রানাকে কর্মীদের জন্য চার লাখ টাকা দিয়েছি। সে নিজেই চাঁদাবাজি করতে চায়। আমি আমাদের নেতা লায়ন হেলালকে জানিয়ে দিয়েছি, রানা এখানে আর রাজনীতি করতে পারবে না।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে চাতরী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য (মেম্বার) মনসুর বলেন, “আমি মারামারি করতে যাইনি, বরং ছেলেদের শান্ত করার চেষ্টা করেছি। বাজারটি আমার ওয়ার্ডে হওয়ায় যেকোনো সমস্যায় জাকির সাহেব আমাকে ডাকেন।”
দলীয় কোন্দলের বিষয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, “ব্যক্তিগত স্বার্থে দলকে ব্যবহার করা যাবে না, এটা আমাদের নেতা তারেক রহমানের স্পষ্ট বার্তা। কারও বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে দল অবশ্যই ব্যবস্থা নেবে।”
এদিকে, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব লায়ন হেলালের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনির হোসেন জানিয়েছেন, “এ ঘটনায় মোর্শেদ নামে একজন থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। আমরা প্রাথমিক সত্যতা যাচাই করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”