
সারাদেশের মতো বন্দর নগরী চট্টগ্রামেও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে কিশোর অপরাধীরা। তবে এখানে তারা কৌশল বদলে নতুন রূপে সংগঠিত হচ্ছে। আগের প্রভাবশালী ‘বড় ভাই’ বা পৃষ্ঠপোষকদের বলয় ছেড়ে নতুন আশ্রয়ে গিয়ে ছিনতাই, চাঁদাবাজি থেকে শুরু করে খুনের মতো অপরাধেও জড়াচ্ছে তারা।
এই পরিস্থিতিতে কিশোর অপরাধীদের তালিকা হালনাগাদ করার কাজ শুরু করেছে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ (সিএমপি)।
পুলিশ ও স্থানীয় বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, চট্টগ্রাম মহানগরীর বায়েজিদ বোস্তামী, খুলশী, চান্দগাঁও, পাঁচলাইশ, হালিশহর, ডবলমুরিং, কোতোয়ালি ও আকবর শাহ থানা এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা সবচেয়ে বেশি। এসব এলাকায় প্রতিটি চক্রে ১৫ থেকে ৩০ জন সদস্য রয়েছে।
তথ্যাভিযানে জানা গেছে, নগরীর বিভিন্ন এলাকায় কিশোর অপরাধীদের নিয়ন্ত্রণ করছেন নতুন ‘বড় ভাই’রা। বায়েজিদ বোস্তামী এলাকায় এই চক্র নিয়ন্ত্রণ করছেন সাইফুল ইসলাম ও সবুজ নামে দুজন। হালিশহরে মো. আসলাম, চান্দগাঁওয়ে শহিদুল ইসলাম এবং কোতোয়ালি এলাকায় মো. আবিদ কিশোর অপরাধীদের নতুন নিয়ন্ত্রক হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন।
সিএমপি ২০১৯ সালে প্রথম কিশোর অপরাধীদের একটি তালিকা তৈরি করেছিল। সম্প্রতি তাদের তৎপরতা নতুন করে বাড়ায় এবং পৃষ্ঠপোষক পরিবর্তন হওয়ায় তালিকাটি হালনাগাদ করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে বলে পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কিশোর অপরাধ দমনে শুধু অভিযান বা তালিকা তৈরিই যথেষ্ট নয়, এর সঙ্গে সামাজিক সচেতনতামূলক কর্মসূচি আরও জোরদার করতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে আড্ডা নিয়ন্ত্রণ, অভিভাবকদের কাউন্সেলিং এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সার্বক্ষণিক তৎপরতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তারা।
সারাদেশের চিত্র
কিশোর অপরাধীদের এই তৎপরতা শুধু চট্টগ্রামেই সীমাবদ্ধ নয়। রাজধানী ঢাকা ছাড়াও শিল্পনগরী গাজীপুরে অন্তত ৩০টি, কুমিল্লায় ২০টি এবং খুলনায় পুলিশের তালিকায় দুই শতাধিক কিশোর অপরাধীর নাম রয়েছে।
রাজশাহী ও সিলেটে পুরনো চক্রগুলো নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজে ভিন্ন কৌশলে সক্রিয় হয়েছে। ময়মনসিংহের পার্ক এলাকাগুলোতে তাদের দাপটে দর্শনার্থী ও সাধারণ মানুষ ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
তবে সবচেয়ে উদ্বেগজনক চিত্র পর্যটন নগরী কক্সবাজারে। সেখানে শতাধিক চক্রের অধিকাংশ সদস্যই রোহিঙ্গা শরণার্থী। পুলিশ জানিয়েছে, তারা ক্যাম্প থেকে এসে শহরের পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে ছিনতাইসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি মো ইলিয়াস খান বলেন, ‘রোহিঙ্গা কিশোরদের তৎপরতা বেড়েছে। কয়েক দিন আগে কলাতলী গণপূর্ত পার্ক থেকে ১২ কিশোর অপরাধী আটক করি। তাদের ১০ জনই ছিল রোহিঙ্গা।’