
ইসলামের প্রচার ও প্রসারের সঙ্গে মাজার সংস্কৃতি ঐতিহ্যের অংশ হয়ে উঠেছে এবং এটি মুসলিম সমাজে ধর্মীয় ঐক্য সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখে বলে মন্তব্য করেছেন বক্তারা।
শনিবার চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফে আয়োজিত ২১তম আন্তর্জাতিক জশনে ঈদে মিলাদুন্নবী মাহফিলে তারা এসব কথা বলেন।
গাউছিয়া আহমদিয়া মঞ্জিলের সাজ্জাদানশীন হযরত মওলানা শাহ ছুফী সৈয়দ এমদাদুল হক মাইজভাণ্ডারীর সভাপতিত্বে ও ব্যবস্থাপনায় দরবার শরীফের শাহী ময়দানে এই মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
মাহফিলে বক্তারা বলেন, হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর জীবন মানবতার কল্যাণ, সম্প্রীতি এবং ন্যায় প্রতিষ্ঠার এক পরিপূর্ণ দিকনির্দেশনা। তার আদর্শ অনুসরণ করে পরস্পরের মধ্যে ভালোবাসা ও শ্রদ্ধাবোধের মাধ্যমেই সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব।
সভাপতির বক্তব্যে সৈয়দ এমদাদুল হক মাইজভাণ্ডারী বলেন, “মহানবী (স.)-এর জীবন ছিল মানবতার মুক্তি, সহানুভূতি এবং শান্তি প্রতিষ্ঠায় উৎসর্গীকৃত। তার আদর্শই আজ আমাদের পথ প্রদর্শক এবং সমাজে শৃঙ্খলা ও শান্তি আনার একমাত্র মাধ্যম।”
আয়োজনের সার্বিক তত্ত্বাবধায়ক, নায়েব সাজ্জাদানশীন সৈয়দ ইরফানুল হক মাইজভাণ্ডারী বলেন, “ইসলামের ইতিহাসে আমরা দেখতে পাই, মাজার সংস্কৃতি ইসলামের অংশ। এটি মুসলিম সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত। ধর্ম প্রচারক ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের স্মৃতিকে চিরস্থায়ী করার জন্য মাজার প্রতিষ্ঠা করার প্রবণতা বৃদ্ধি পায়।”
তিনি আরও বলেন, “মহানবী (স.)-এর বিদায় হজ্বের শিক্ষা আমাদের মনে করিয়ে দেয়, ধর্ম মানে শুধু আচার নয়, বরং মানবতার ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা।”
মাহফিলে ভারতের মহারাষ্ট্র থেকে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আল্লামা মুফতি মুহাম্মদ ফয়েজ আহমদ রিজভী মিসবাহী। এছাড়া আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আল্লামা কাযী মুহাম্মদ মুঈনুদ্দীন আশরাফী, জামেয়া আহমদিয় সুন্নিয়া কামিল মাদ্রাসার ফকিহ আল্লামা মুফতি আবুল হাসান মোহাম্মদ ওমাইর রেজভীসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা ইসলামী চিন্তাবিদরা বক্তব্য রাখেন।
খান এগ্রো গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলহাজ্ব সৈয়দুল হক খান, চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক পরিচালক জহিরুল ইসলাম চৌধুরী আলমগীর, মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আবু তাহেরসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
মাহফিল শেষে বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর শান্তি, কল্যাণ ও মুক্তি কামনা করে আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করেন সৈয়দ এমদাদুল হক মাইজভাণ্ডারী।