
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ইছামতী খালের ভাঙন প্রতিরোধে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জরুরি ভিত্তিতে কাজ শুরু করেছে। শনিবার (১১ অক্টোবর) থেকে খালপাড় পরিষ্কার করা এবং জিও ব্যাগ বসানোর প্রাথমিক ধাপের কাজ চলছে।
এর আগে গত ২৬ জুলাই একুশে পত্রিকায় “চোখের সামনে খালে বিলীন হচ্ছে ঘর, রাঙ্গুনিয়ায় নিঃস্ব দিনমজুরের পরিবার” শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনে রাঙ্গুনিয়ার পারুয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের মণ্ডলপাড়ায় একটি দিনমজুর পরিবারের ঘর খালে বিলীন হয়ে যাওয়ার খবর তুলে ধরা হয়। প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ভাঙনরোধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন।
প্রতিবেদনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্য অয়ন দে অভিযোগ করে বলেন, “বিগত সময়ে খাল থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে পাড় দুর্বল হয়ে পড়েছিল। টানা বৃষ্টিতে হঠাৎ করেই ঘরের একটি অংশ খালের দিকে দেবে যায়।”
অয়নের বাবা সুজন দে একজন দিনমজুর। পরিবারের তিন ভাইয়ের মধ্যে দুজন স্থানীয় ওয়ার্কশপে কাজ করেন এবং অয়ন নিজে একটি এনজিওতে চাকরি করেন। ঘর ভেঙে পড়ায় পরিবারটি এখন নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধান করছে।
অয়ন দে ক্ষোভ প্রকাশ করে আরও বলেন, “খালের অন্য অংশে ব্লক বসানো হলেও আমাদের এলাকাটি অরক্ষিত রয়ে গেছে। তেরো বছর ধরে শুধু আশ্বাসই শুনে যাচ্ছি, কিন্তু কোনো কাজ হয়নি।”
প্রতিবেদনটি প্রকাশের দুই দিন পর, গত ২৯ জুলাই, পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শন শেষে প্রকৌশলী বিটু চাকমা বলেন, “ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশে আমরা এলাকাটি পরিদর্শনে এসেছি। এখানে ভাঙনের কারণে একাধিক পরিবার ঝুঁকিতে রয়েছে। আমরা পরিমাপ করে প্রতিবেদন জমা দেব। স্থানীয়দের পক্ষ থেকে আবেদন জমা দেওয়া হলে প্রক্রিয়া অনুযায়ী ভাঙনরোধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ভুক্তভোগী অয়ন দে জানান, “পানি উন্নয়ন বোর্ডের লোকজন এসে আমাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। তারা এলাকাবাসীর স্বাক্ষরসহ একটি লিখিত আবেদন রাঙ্গামাটি পানি উন্নয়ন বিভাগে জমা দিতে বলেছেন। আবেদন জমা দিলে কাজটি অগ্রাধিকার পাবে বলে জানিয়েছেন।”
এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ও একুশে পত্রিকার প্রতিবেদন প্রকাশের পর অবশেষে শনিবার খালের ভাঙন কবলিত অংশে জিও ব্যাগ বসিয়ে অস্থায়ী প্রতিরোধ ব্যবস্থা নেওয়ার কাজ শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ।
এ বিষয়ে রাঙ্গামাটি পানি উন্নয়ন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী তয়ন কুমার ত্রিপুরা জানান, “সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি আমাদের নজরে আসে। বর্তমানে ভাঙন অংশে জিও ব্যাগ বসিয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আগামী শুষ্ক মৌসুমে ব্লক স্থাপনের কার্যক্রম হাতে নেওয়া হবে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।”
ভুক্তভোগী পরিবার এবং এলাকাবাসী দীর্ঘদিনের দাবি পূরণে অবশেষে কাজ শুরু হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। তবে তারা স্থায়ী সমাধানের জন্য দ্রুত ব্লক স্থাপনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।