সোমবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ৬ মাঘ ১৪৩২

চাকসু নির্বাচন: বহিষ্কৃত ছাত্রদল নেতার ফেসবুক স্ট্যাটাসে তোলপাড়

একুশে প্রতিবেদক | প্রকাশিতঃ ১৪ অক্টোবর ২০২৫ | ৩:৪০ অপরাহ্ন


চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল প্রকাশ্যে রূপ নিয়েছে। দল থেকে আজীবন বহিষ্কৃত হওয়ার পর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ছাত্রদলের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মামুন উর রশিদ কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছিরকে কটাক্ষ করে ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছেন, যা নিয়ে সংগঠনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুরে নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে মামুন তীর্যক ভাষায় নাছিরের সমালোচনা করেন। নির্বাচনের ঠিক আগ মুহূর্তে ছাত্রদলের এই বিভক্তি নেতাকর্মীদের হতাশ করার পাশাপাশি সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সোমবার মামুন উর রশিদকে দল থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়। ২০১১ সালে আন্দোলন করতে গিয়ে পুলিশের হামলায় গুরুতর আহত ও কারাবরণ করা এই নেতার প্রতি দলের অনেক নেতাকর্মীর সহানুভূতি রয়েছে।

দলীয় সূত্র জানিয়েছে, চাকসু নির্বাচনে ছাত্রদলের ঘোষিত প্যানেলে জায়গা না পাওয়া কয়েকজন নেতাকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে উৎসাহিত করার অভিযোগে মামুনকে বহিষ্কার করা হয়েছে, যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো কারণ দেখানো হয়নি।

বহিষ্কারের ঘোষণার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকে মামুনকে ‘ত্যাগী নেতা’ আখ্যা দিয়ে তার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের দাবি জানান। শুরুতে চুপ থাকলেও মঙ্গলবার দুপুর দেড়টার দিকে নীরবতা ভাঙেন মামুন।

কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীনের ছবি যুক্ত করে ফেসবুকে তিনি লেখেন, “সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) নির্বাচন ২০২৫-এ সুন্দর প্যানেল দিয়ে ছাত্রদলের বিজয় নিশ্চিত করায় ছাত্রদলের সাংগঠনিক অভিভাবকের প্রতি আবেদন করছি- জনাব নাছির উদ্দীন নাছিরকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সিনিয়র সহসভাপতি হিসেবে শূন্য পদে মনোনীত করা হোক। ডাকসু ও জাকসুতে হারার পরও কেমন করে এই পদে থাকেন তিনি! আমি যদি ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক হতাম, নিজে পদত্যাগ করে নাছির উদ্দীন নাছিরকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দুই বিঘা জমি লিজ নিয়ে জোবরার জমিদারদের কাছ থেকে চারটি গরু কিনে চাষ করতে দিতাম।”

পোস্টটি কিছু সময় পর মামুনের ফেসবুক ওয়াল থেকে সরিয়ে ফেলা হলেও এর আগেই সেটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয় এবং অনেকে পক্ষে-বিপক্ষে মন্তব্য করতে থাকেন।