সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি বিদেশি কোম্পানির হাতে যেতে বাধা নেই

হাইকোর্টে রুল খারিজ, নিষ্পত্তি হলো আগের দ্বিধাবিভক্ত রায়ের
একুশে প্রতিবেদক | প্রকাশিতঃ ২৯ জানুয়ারী ২০২৬ | ৩:৫৪ অপরাহ্ন


চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনায় বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তির বৈধতা নিয়ে জারি করা রুল খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। এর ফলে এনসিটি পরিচালনায় বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করতে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের আর কোনো আইনি বাধা রইল না।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বিচারপতি জাফর আহমেদের একক হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, অ্যাডভোকেট আহসানুল করিম ও ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক।

মামলার বিবরণে জানা যায়, এনসিটি পরিচালনায় বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তির প্রক্রিয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিটের ওপর গত ৪ ডিসেম্বর হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ দ্বিধাবিভক্ত রায় দিয়েছিলেন। তখন বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি ফাতেমা নজীব চুক্তি প্রক্রিয়া অবৈধ ঘোষণা করলেও কনিষ্ঠ বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ার রিট খারিজ করে প্রক্রিয়াটিকে বৈধ ঘোষণা করেন।

নিয়মানুযায়ী বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য প্রধান বিচারপতি মামলাটি বিচারপতি জাফর আহমেদের একক বেঞ্চে পাঠান। সেখানে শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার রুল খারিজের এই রায় এল।

এর আগে গত বছরের ৩০ জুলাই এনসিটি পরিচালনায় বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তির চলমান প্রক্রিয়া কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছিলেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন ও নীতি অনুসরণ করে প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র (পাবলিক বিডিং) নিশ্চিত করার নির্দেশনা কেন দেওয়া হবে না, তাও জানতে চাওয়া হয়েছিল।

‘নিউমুরিং টার্মিনালে সবই আছে, তবু কেন বিদেশির হাতে যাচ্ছে’—গণমাধ্যমে প্রকাশিত এমন প্রতিবেদনের সূত্র ধরে বাংলাদেশ যুব অর্থনীতিবিদ ফোরামের সভাপতি মির্জা ওয়ালিদ হোসাইন রিটটি দায়ের করেছিলেন। রিটে নৌসচিব, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ও পিপিপি কর্তৃপক্ষের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিবাদী করা হয়েছিল।

তবে আজকের রায়ের ফলে বিদেশি অপারেটর নিয়োগের চলমান প্রক্রিয়াটি আইনি বৈধতা পেল।