সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

৫ আগস্ট পরবর্তী আচরণ আর নির্বাচনকালীন আচরণ এক হবে না: সেনা কর্মকর্তা

সোনাইমুড়ীতে অপরাধীদের তথ্য দিতে হটলাইন চালু, পরিচয় গোপন রাখার নিশ্চয়তা
সোনাইমুড়ী (নোয়াখালী) প্রতিনিধি | প্রকাশিতঃ ৩১ জানুয়ারী ২০২৬ | ৭:০১ অপরাহ্ন


আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা এবং শান্তিপূর্ণ ভোটের পরিবেশ নিশ্চিতে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে সেনাবাহিনী। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হবে বলে জানিয়েছেন নোয়াখালীতে অবস্থানরত সেনাবাহিনীর উপ-অধিনায়ক মেজর রেজাউর রহমান বাপ্পী।

শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সকালে নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলা মডেল মসজিদের কনফারেন্স রুমে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

মেজর রেজাউর রহমান বাপ্পী বলেন, আসন্ন নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রে শতভাগ ভোটারের উপস্থিতি নিশ্চিত করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, “সেনাবাহিনীর ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ের আচরণ আর নির্বাচনকালীন আচরণ একরকম হবে না। বিশৃঙ্খলা করলে কোনো ধরনের নমনীয় আচরণ করা হবে না।”

নির্বাচনী নিরাপত্তা পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি জানান, জনগণের মাঝে আস্থা ফেরাতে আগামী ২ ফেব্রুয়ারি থেকে শো-ফোর্স ও প্যাট্রোলিং শুরু করা হবে। এছাড়া জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে ৪ ও ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে মাইকিং করা হবে। নির্বাচনের দিন ভোটকেন্দ্রে আনসার, পুলিশ ও সেনাবাহিনীসহ কয়েক স্তরের নিরাপত্তা থাকবে। কেউ ভোট দিতে বাধা দিলে টহল টিম তা প্রতিহত করবে এবং গুজব ছড়ালে দ্রুততম সময়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সভায় সোনাইমুড়ী সেনা ক্যাম্প কমান্ডার ক্যাপ্টেন নাবিল আহম্মেদ জানান, বজরা, আমিশাপাড়া, সোনাপুরসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেফতারে নিয়মিত অভিযান চলছে। সাধারণ মানুষ যেন নির্ভয়ে ও পরিচয় গোপন রেখে অপরাধীদের তথ্য দিতে পারে, সেজন্য একটি কো-অর্ডিনেটর সেল গঠন করা হয়েছে।

তথ্য দেওয়ার জন্য ০১৭৬৯৩৩১৫১৯ নম্বরে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানান তিনি। এছাড়া নির্বাচনের দিন যেকোনো অপতৎপরতা নির্মূলে ‘কুইক রিঅ্যাকশন ফোর্স’ প্রস্তুত থাকবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত সাংবাদিকরা বিগত নির্বাচনের সহিংসতা ও তৎকালীন প্রশাসনের ভূমিকা তুলে ধরেন। তারা থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার এবং এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও অবৈধ অস্ত্রধারীদের গ্রেফতারে সেনাবাহিনীর জোরালো অভিযানের দাবি জানান। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের সংবেদনশীল তথ্য প্রচারের ক্ষেত্রে যাচাই-বাছাই করা এবং গুজবের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকার অনুরোধ জানানো হয়।