
চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা এখন তুঙ্গে। এবারের নির্বাচনে প্রথমবারের মতো পোস্টার না সাটানোর কারণে প্রার্থীদের ভরসা এখন গণসংযোগ, মাইকিং আর পথসভা। যদিও পোস্টার নেই, তবুও গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো ছেয়ে গেছে প্রার্থীদের ব্যানার ও ফেস্টুনে। তবে উপজেলার ১৭টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার প্রায় সাড়ে তিন লাখ ভোটারের সবার কাছে প্রার্থীরা পৌঁছাতে পারবেন কি না, তা নিয়ে ভোটারদের মাঝে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) দিনভর উপজেলার জঙ্গলখাইন ইউনিয়নে বিএনপির প্রার্থী এনামুল হক এনাম এবং ভাটিখাইন ও ছনহরা ইউনিয়নে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ডা. ফরিদুল আলম ব্যাপক গণসংযোগ করেছেন। এছাড়া ইসলামী আন্দোলন, ইসলামী ফ্রন্ট, জাতীয় পার্টি ও ইনসানিয়াত বিপ্লবের প্রার্থীরাও মাইকিং ও পেস্টুন বিলির মাধ্যমে প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করেছেন।
‘সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজের ঠাঁই হবে না’—এনামুল হক এনাম
শনিবার জঙ্গলখাইন ইউনিয়নের এয়াকুবদণ্ডী, নাইখাইন, গৈড়লারটেক, নিমতল, আমজুর হাট ও এবাদতখানাসহ বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ ও পথসভায় বক্তব্য রাখেন বিএনপির প্রার্থী এনামুল হক এনাম। নাইখাইন বারিকভাণ্ডার দরবার শরীফ এলাকায় অনুষ্ঠিত পথসভায় তিনি বলেন, পটিয়ায় কোনো সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ, মাদক ব্যবসায়ী কিংবা কিশোর গ্যাংয়ের জায়গা হবে না। পটিয়াকে শান্তি, শৃঙ্খলা ও নিরাপদ জনপদ হিসেবে গড়ে তোলা হবে।
স্থানীয় পরিবেশ দূষণ নিয়ে তিনি বলেন, ফুলকলি ফুড প্রোডাক্ট লিমিটেড কারখানার বর্জ্য দূষণে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ এলাকাবাসী চরম দুর্ভোগে রয়েছে। বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় এলে পটিয়াকে দূষণমুক্ত ও পরিবেশবান্ধব জনপদ হিসেবে গড়ে তোলা হবে।
জনকল্যাণমূলক প্রতিশ্রুতির কথা তুলে ধরে এনামুল হক এনাম বলেন, কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ এবং প্রতিটি পরিবারের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করা হবে। এর মাধ্যমে মাসিক দুই হাজার থেকে আড়াই হাজার টাকা সহায়তা অথবা নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী প্রদান করা হবে। এছাড়া খতিব, ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের জন্য মাসিক সম্মানি ও উৎসব ভাতার ব্যবস্থাও করা হবে।
এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক খোরশেদ আলম, পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক তৌহিদুল আলম, জঙ্গলখাইন ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম, সাধারণ সম্পাদক সেলিম সিকদার, সাংগঠনিক সম্পাদক ওহিদুল আলম, বিএনপি নেতা আবু তালেব, শাহাবুদ্দিন খোকন, নাজমুল, রহিম উল্লাহ, শওকত আলী, বকুল এবং যুবদল নেতা শহিদুল আলম। আরও উপস্থিত ছিলেন পটিয়া উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব ওহিদুল আলম পিপলু, দক্ষিণ জেলা যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক হামিদুর রহমান পেয়ারু, পটিয়া উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হেলাল উদ্দিন এরশাদ, উপজেলা শ্রমিকদলের আহ্বায়ক শাখাওয়াত হোসেন, সদস্য সচিব আবু নোমান চৌধুরী লিটন, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক এস এম হোসেন নয়ন, শাহাদাত হোসেন ও রেজাউল করিম মিজানসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
‘মাদক ও দুর্নীতিমুক্ত পটিয়া গড়তে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিন’—ডা. ফরিদুল আলম
অন্যদিকে, পটিয়াকে মাদক, সন্ত্রাস ও দুর্নীতিমুক্ত করার আহ্বান জানিয়ে গণসংযোগ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ডা. ফরিদুল আলম। শনিবার সকালে ভাটিখাইন ও দুপুরে ছনহরা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ করেন তিনি। সকালে ভাটিখাইন ইউনিয়নে নিজের প্রধান নির্বাচনী অফিসও উদ্বোধন করেন এই প্রার্থী।
ডা. ফরিদুল আলম বলেন, নতুন বাংলাদেশ গড়তে হলে দেশপ্রেমিক নেতৃত্ব নির্বাচিত করতে হবে। বিগত সময়ে উন্নয়নের দোহাই দিয়ে দেশের সম্পদ লুটপাট করা হয়েছে এবং অর্থনীতিকে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। দেশের অস্তিত্ব রক্ষায় এবার দাঁড়িপাল্লা প্রতীককে বিজয়ী করতে হবে।
গণসংযোগকালে তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা জামায়াতের আমীর জসিম উদ্দীন, নায়েবে আমীর সাদেক হোসেন, অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জয়নাল আবেদীন আয়াজ, নজরুল ইসলাম, ভাটিখাইন ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি অ্যাডভোকেট বোরহান উদ্দীন, ছনহরা ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি মো. সাইফুদ্দীন, জামায়াত নেতা আশিকুল মোস্তফা তাইফু, উপজেলা শিবির সভাপতি মাহবুব উল্লাহ এবং পটিয়া সরকারি কলেজ শিবির সভাপতি আবুল হাসনাত মোহাম্মদ জুবাইর প্রমুখ।