
রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীনের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেছে বিএনপি ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। বৈঠকে দুই দলই প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন ও কর্মীদের ওপর হামলার পাল্টাপাল্টি অভিযোগ তুলে ধরেছে।
বিএনপির অভিযোগ, একটি রাজনৈতিক দল ধর্মীয় অনুভূতি ব্যবহার করে ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর নারী শাখার অভিযোগ, তাদের নারী কর্মীদের ওপর নির্বাচনী প্রচারণায় হামলা চালানো হচ্ছে।
সিইসির সঙ্গে বৈঠকের পর বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান অভিযোগ করেন, একটি রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা ধর্মীয় অপব্যাখ্যা দিয়ে ভোটারদের প্রভাবিত করছেন, যা গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের (আরপিও) সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
কারও নাম উল্লেখ না করে নজরুল ইসলাম খান বলেন, “একটি দলের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, নির্দিষ্ট প্রতীকে ভোট না দিলে কবরে গিয়ে মুসলমানকে চতুর্থ প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হবে। এমন ধর্মীয় অপপ্রচার নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নষ্ট করছে।”
এর আগে শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) গুলশানে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করেছিলেন, জামায়াতে ইসলামী অনলাইন ও অফলাইনে বিএনপির নারী কর্মীদের হয়রানি করছে। তিনি বলেন, “জামায়াতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সাইবার বাহিনী ধর্ম ব্যবহার করে নারীদের নিয়ে অশ্লীল ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করছে।”
রিজভী আরও মন্তব্য করেন, আসন্ন নির্বাচনে জামায়াত কোনো নারী প্রার্থী না দেওয়াই প্রমাণ করে নারীদের প্রতি তাদের দৃষ্টিভঙ্গি কেমন। তিনি হুঁশিয়ারি দেন, এমন শক্তি ক্ষমতায় এলে নারীরা সবচেয়ে বেশি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগবে।
এদিকে, জামায়াতে ইসলামীর নারী বিভাগের সেক্রেটারি নূরুন্নিসা সিদ্দিকার নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল সিইসির কাছে স্মারকলিপি জমা দেয়। তাদের অভিযোগ, নির্বাচনী প্রচারণায় তাদের নারী কর্মীদের ওপর হামলা চালানো হচ্ছে।
প্রতিনিধিদলের সদস্য ও রাজনৈতিক বিষয়ক দায়িত্বপ্রাপ্ত হাবিবা চৌধুরী বলেন, “গত ১৫-১৬ বছর ধরে আমাদের মা-বোনেরা ঠিকমতো ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেননি। এখন একটি বিশেষ মহল আবারও নারীদের এই সুযোগ থেকে বঞ্চিত করার ষড়যন্ত্র করছে।”
তারা হামলার স্বপক্ষে ছবিসহ বিভিন্ন প্রমাণ সিইসির কাছে উপস্থাপন করেন। হাবিবা চৌধুরী জানান, কমিশন তাদের অভিযোগ গুরুত্বসহকারে শুনেছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।
জামায়াতে ইসলামীতে নারীদের শীর্ষ নেতৃত্বে না থাকার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন দলটির নারী বিভাগের সেক্রেটারি নূরুন্নিসা সিদ্দিকা। তিনি বলেন, “জামায়াতে ইসলামী একটি ইসলামি দল এবং আমাদের ইসলামি বিধান মেনেই চলতে হয়। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, পুরুষরা নারীদের অভিভাবক। এটি কোরআনের নির্দেশ এবং এর ভিত্তিতেই নারীরা কোনো ইসলামি দলের শীর্ষ নেতৃত্ব বা আমির হতে পারেন না।”
তবে তিনি দাবি করেন, শীর্ষ পদে থাকাটাই মুখ্য বিষয় নয়, বরং নারীর অধিকার নিশ্চিত করাই আসল। নূরুন্নিসা সিদ্দিকা জানান, জামায়াতের সাংগঠনিক কাঠামোতে নারীদের উল্লেখযোগ্য প্রতিনিধিত্ব রয়েছে। দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম ‘মজলিসে শূরা’র প্রায় ৪৩ শতাংশ সদস্যই নারী।