সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

সিকিমের ভূমিকম্পে কাঁপল বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চল

একুশে প্রতিবেদক | প্রকাশিতঃ ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ | ১২:১৪ অপরাহ্ন


ভারতের সিকিমে মাত্র সাড়ে চার ঘণ্টার ব্যবধানে অন্তত ১৩ বার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। এই কম্পনের প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলেও। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ১টা ৪০ মিনিটের দিকে হঠাৎ করে ঠাকুরগাঁও ও দিনাজপুরসহ পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতে কম্পন অনুভূত হলে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। গভীর রাতে অনেকেই ঘুম থেকে জেগে ওঠেন এবং নিরাপত্তার জন্য ঘর থেকে বাইরে বেরিয়ে আসেন।

ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজির তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয় সময় রাত দেড়টা নাগাদ (বাংলাদেশ সময় রাত ২টা) সিকিমের গেলসিং এলাকায় প্রধান ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৪.৫। কম্পনের উৎসস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে। এই মূল কম্পনের পর শুরু হয় একের পর এক আফটারশক। মঙ্গন এলাকায় ৭টি, নামচিতে ৪টি এবং গ্যাংটকে ৩.১ মাত্রার ১টিসহ মোট ১৩টি কম্পন রেকর্ড করা হয়েছে।

বাংলাদেশে এর প্রভাব সম্পর্কে ঠাকুরগাঁও শহরের গোয়ালপাড়া এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা সাগর, সুমন ও নিরব জানান, গভীর রাতে হঠাৎ কয়েক সেকেন্ডের জন্য ঘরবাড়ি ও আসবাবপত্র কেঁপে ওঠে। ভূমিকম্পের স্থায়িত্ব অল্প সময়ের হলেও ভীতিকর ছিল। ভয়ে অনেকেই রাস্তায় নেমে আসেন। তবে বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

ঠাকুরগাঁও সদর, পীরগঞ্জ, রানীশংকৈল ও বালিয়াডাঙ্গীসহ জেলার বিভিন্ন এলাকা এবং পার্শ্ববর্তী দিনাজপুরের কয়েকটি এলাকাতেও কম্পন অনুভূত হওয়ার কথা জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়েছেন নেটিজেনরা। তবে বাংলাদেশে কোথাও কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

এদিকে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ওয়াল’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সিকিমে পরপর এই কম্পনে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বহু পর্যটক মাঝরাতে হোটেল ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে আসেন। স্থানীয় বাসিন্দারাও ঘর থেকে বেরিয়ে নিরাপদ জায়গায় আশ্রয় নেন। তবে সেখানেও এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।