সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

রাঙ্গুনিয়ায় নারী কর্মীদের হেনস্তার অভিযোগে জামায়াতের বিক্ষোভ, বিএনপির পাল্টা মিছিল

রাঙ্গুনিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি | প্রকাশিতঃ ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ | ২:৫৬ অপরাহ্ন


নির্বাচনী প্রচারণাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার রাজনীতি। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে উপজেলার পোমরা এলাকায় দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী ডা. এ টি এম রেজাউল করিমের নারী কর্মী ও সমর্থকদের ওপর হামলার অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে জামায়াতে ইসলামী।

অন্যদিকে জামায়াতের এই অভিযোগকে মিথ্যা ও উসকানিমূলক আখ্যা দিয়ে এবং উল্টো নিজেদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার দাবি করে একই রাতে পাল্টা বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে বিএনপির অঙ্গসংগঠন যুবদল ও ছাত্রদল।

শুক্রবার রাতে উপজেলার রোয়াজারহাট এলাকায় জামায়াতের বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে অভিযোগ করা হয়, পোমরা ইউনিয়নের নোয়াগাঁও এলাকায় গণসংযোগ শেষে ফেরার পথে তাদের নারী কর্মীদের গতিরোধ করে বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মী। এসময় ভিডিও ধারণের পাশাপাশি আপত্তিকর মন্তব্য ও হেনস্তা করা হয়। একপর্যায়ে তাদের ব্যবহৃত গাড়ির গ্লাস ভেঙে দেওয়া হয় এবং হামলায় ওমর ফারুক নামে এক প্রবাসীসহ দুজন আহত হন। আহতদের চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

সমাবেশে জামায়াত নেতারা বলেন, গত কয়েকদিন ধরে তারা গণমাধ্যমের মাধ্যমে শান্ত রাঙ্গুনিয়াকে অশান্ত না করার আহ্বান জানিয়ে আসছেন। কিন্তু সেই আহ্বান উপেক্ষা করে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। তারা শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন পর্যন্ত যেতে চান এবং কোনো ধরনের সহিংসতা কামনা করেন না। তবে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া হলে পরিস্থিতির দায় সংশ্লিষ্টদের নিতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তারা। একই সঙ্গে হামলাকারীদের গ্রেপ্তারে আগামী ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেন জামায়াত নেতারা। এ ঘটনায় থানা ও সেনাবাহিনীর কাছে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলেও জানানো হয়।

এদিকে জামায়াতের এই কর্মসূচির পরপরই একই রাতে পাল্টা বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করে স্থানীয় যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। তাদের দাবি, ধানের শীষের প্রার্থী হুমাম কাদের চৌধুরীর গণসংযোগে ব্যাপক জনসমর্থন দেখে একটি পক্ষ ঈর্ষান্বিত হয়ে পরিকল্পিতভাবে শান্ত রাঙ্গুনিয়াকে অশান্ত করার চেষ্টা করছে এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করতে চাইছে।

বিএনপি নেতা ভিপি আনছুর উদ্দিন জামায়াতের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, উল্লেখিত স্থানে উল্টো বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালিয়ে পরিস্থিতি ভিন্নখাতে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। ওই ঘটনায় মো. নাছের নামে তাদের এক কর্মী আহত হয়েছেন এবং তাকে ইছাখালী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, জামায়াত উসকানিমূলক বক্তব্য দিচ্ছে। বিএনপি কোনো বিশৃঙ্খলায় জড়াবে না, তবে হুমাম কাদের চৌধুরীর নির্দেশ অনুযায়ী শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রেখে ব্যালটের মাধ্যমে রাজনৈতিক জবাব দেওয়া হবে। এ বিষয়ে প্রশাসনকে মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে এবং লিখিত অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ও অভিযোগের বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে নির্বাচনের মাত্র কয়েক দিন আগে দুই প্রধান দলের এমন মুখোমুখি অবস্থানে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।