
সড়ক সম্প্রসারণ বা উন্নয়নের কাজ সাধারণত জনকল্যাণের জন্য করা হলেও চট্টগ্রামের আনোয়ারায় সিইউএফএল সড়ক সম্প্রসারণের কাজ এখন উল্টো জনদুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সঠিক পরিকল্পনা এবং নিয়ম-নীতির অভাবে ৫৮৪ কোটি টাকা ব্যয়ে চলমান এই প্রকল্পের কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
আনোয়ারা উপজেলার চাতরী চৌমুহনী থেকে সিইউএফএল-মেরিন একাডেমি হয়ে কর্ণফুলী পর্যন্ত ব্যস্ততম সড়কটি সংস্কার ও প্রশস্তকরণ প্রকল্প চলমান রয়েছে। সড়ক ও জনপথ বিভাগ বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত স্ট্যান্ডার্ড প্রোটোকল থাকলেও ঠিকাদাররা তার তোয়াক্কা করছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে চাতরী চৌমুহনী বাজারে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় এক ভয়াবহ চিত্র। আজ সাপ্তাহিক হাটবার হওয়ায় চৌমুহনী এলাকায় স্বাভাবিকের চেয়ে জনসমাগম অনেক বেশি। এর মধ্যেই সড়কের ঢালাই কাজের বিশাল মিক্সিং ডাম্পারগুলো সড়কের উভয় পাশ ব্লক করে রেখেছে। এতে এই বাজার এলাকায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়েছে এবং জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে আছে যানবাহন।
স্থানীয় দোকানদার নাজিমউদ্দীন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তারা কারো কোনো কথায় পাত্তা দেয় না। রাস্তা আটকে রাখা নিয়ে কিছু বললে ঠিকাদারের লোকজন উল্টো ধমক দিয়ে বলে, সরকারি কাজ চলছে, কিছু করার নাই। পারলে সরকারকে গিয়ে অভিযোগ করেন।
কাজের অব্যবস্থাপনার কারণে আহত হয়েছেন পথচারী মো. মিনহাজ। তিনি বলেন, কাজের সংশ্লিষ্ট লোকজন সাধারণ মানুষকে মানুষই মনে করে না। লোহার রডগুলো এলোমেলোভাবে ফেলে রেখেছে। এতে আমার পায়ে রড ঢুকে কেটে গেছে, এখন ইনফেকশন হয়ে গেছে। শেভরণে ডাক্তার দেখাতে এসেছি, কিন্তু রিকশাটা পার্কিং করে যে নামব, সেই জায়গাটুকুও নেই।
সবচেয়ে মানবিক বিপর্যয়ের চিত্র ফুটে ওঠে নাছিমা বেগম নামে এক নারীর কথায়। তিনি বলেন, আমার ছেলের বউয়ের ডেলিভারি চেকআপ করাতে এসেছি। অবস্থা খারাপ দেখে ডাক্তার বলেছেন দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যেতে। কিন্তু ডাক্তারের চেম্বার থেকে নেমে একটি গাড়িতে উঠব, সেই উপায় নেই। রাস্তার দুই পাশেই ঢালাইয়ের বড় বড় গাড়ি ব্লক করে রেখেছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা পার হয়ে যাচ্ছে। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, এই দেশে আমাদের জানের কোনো মূল্য নাই।
এসব বিষয়ে অবগত করা হলে চট্টগ্রাম দক্ষিণ সড়ক বিভাগের দোহাজারী সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী জামাল উদ্দীন বলেন, ঠিকাদারদের এভাবে কাজ করার কথা না। জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করে কাজ করা নিয়মবহির্ভূত। বিষয়টি আমি দেখছি এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছি।