
চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার কালিয়াশ ইউনিয়নের বিওসির মোড় এলাকার কথিত ‘বার্মা কলোনি’তে যৌথ বাহিনী ও উপজেলা প্রশাসনের বিশেষ অভিযানে ১১ জন রোহিঙ্গাকে আটক করা হয়েছে। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত এই অভিযানে নেতৃত্ব দেন সাতকানিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শামসুজ্জামান।
অভিযানে সাতকানিয়া সেনা ক্যাম্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন এস এম সাকিবুজ্জামান শামীম পারভেজের নেতৃত্বে সেনাবাহিনীর একটি দল সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করে। প্রশাসন সূত্র জানায়, সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে ওই এলাকায় রোহিঙ্গাদের অবৈধ অবস্থানের খবর পেয়েই এই ঝটিকা অভিযান চালানো হয়। আটককৃতদের পরিচয় যাচাই-বাছাই ও প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
অভিযান শেষে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শামসুজ্জামান বলেন, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী রোহিঙ্গাদের নির্ধারিত ক্যাম্পের বাইরে অবস্থান করার কোনো সুযোগ নেই। আমরা নিয়মিত তদারকি করছি, যাতে কেউ অবৈধভাবে এখানে বসবাস করতে না পারে। আটক ব্যক্তিদের যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ক্যাম্পে পাঠানো হবে। তিনি আরও বলেন, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও চলমান থাকবে। স্থানীয়দেরও সচেতন থাকতে হবে এবং সন্দেহজনক অবস্থান বা চলাফেরা চোখে পড়লে প্রশাসনকে জানাতে হবে।
এদিকে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিওসির মোড় এলাকার ওই কলোনিতে দীর্ঘদিন ধরে একটি বড় অংশ রোহিঙ্গা পরিবার বসবাস করে আসছে। অভিযোগ রয়েছে, তাদের মধ্যে অনেকেই অবৈধ উপায়ে জন্মসনদ ও জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ করে বাংলাদেশি পরিচয়ে বিভিন্ন এলাকায় কাজ করছেন। কম মজুরিতে শ্রমিক পাওয়ার লোভে কিছু অসাধু নিয়োগদাতা বা ঠিকাদার রোহিঙ্গাদের কাজে লাগাচ্ছেন, যার ফলে স্থানীয় শ্রমবাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে এবং নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
প্রশাসনের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, পরিচয় গোপন করে রোহিঙ্গাদের বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই এ বিষয়ে কঠোর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। যদিও সংশ্লিষ্টদের পরিচয় যাচাই ছাড়া নির্দিষ্ট অপরাধের দায় এখনই কারও ওপর আরোপ করা যাচ্ছে না, তবে প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে।