সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

রাউজানে চার প্রার্থীর বিরামহীন প্রচারণা: সবার লক্ষ্য সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজমুক্ত জনপদ

যৌথ বাহিনীর টহলে স্বস্তি, কেন্দ্রে যাওয়ার অপেক্ষায় রাউজানবাসী
আমির হামজা | প্রকাশিতঃ ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ | ৭:৩৪ অপরাহ্ন


আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনে উৎসবমুখর হয়ে উঠেছে ভোটের মাঠ। এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী চার রাজনৈতিক দলের চার প্রার্থী রাত-দিন চষে বেড়াচ্ছেন নির্বাচনী এলাকা। ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে তারা প্রত্যেকেই রাউজানকে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজমুক্ত করে একটি শান্তি, সমৃদ্ধি ও শিক্ষিত জনপদে পরিণত করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। যেকোনো মূল্যে অসাম্প্রদায়িক চেতনা সমুন্নত রেখে সব ধর্ম-বর্ণের মানুষের জন্য রাউজানকে নিরাপদ ঠিকানায় পরিণত করাই এখন তাদের মূল এজেন্ডা।

এই আসনে হেভিওয়েট প্রার্থী হিসেবে মাঠ কাঁপাচ্ছেন বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী। তার সঙ্গে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী শাহাজাহান মঞ্জু এবং মোমবাতি প্রতীক নিয়ে বৃহত্তর সুন্নী জোট সমর্থিত বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের প্রার্থী অধ্যক্ষ আল্লামা ইলিয়াছ নূরী। এছাড়া মাথাল প্রতীক নিয়ে গণসংহতি আন্দোলনের নাসির উদ্দিন তালুকদারও প্রচারণায় সরব রয়েছেন।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে জমে উঠতে শুরু করেছে নির্বাচনী মাঠ। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত প্রার্থীরা বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে গণসংযোগ, পথসভা, সুধী সমাবেশ ও মতবিনিময় সভার মাধ্যমে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে সমর্থন আদায়ের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। চায়ের দোকান, হাট-বাজার ও পাড়া-মহল্লার আড্ডায় ভোটারদের মধ্যে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। সাধারণ ভোটারদের ভাষ্যমতে, বিশাল এই জনপদে শেষ পর্যন্ত কার গলায় বিজয়ের মালা উঠবে, তা নির্ভর করছে সাধারণ মানুষের আস্থার ওপর। তবে হেভিওয়েট প্রার্থী হিসেবে গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকলেও অধ্যক্ষ আল্লামা ইলিয়াছ নূরী এবং শাহাজাহান মঞ্জুর শক্ত অবস্থানের কারণে এখানে ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে মানুষের মনে কিছুটা ভয় ও শঙ্কা কাজ করছে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে ভোটকেন্দ্রে যাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। ফলে ভোট দেওয়ার আগ্রহ থাকলেও প্রকাশ্যে তা জানাতে অনেকে অনিচ্ছুক। তবে এখন পর্যন্ত রাউজানে বড় কোনো সংঘাতের খবর মেলেনি। নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশের সমন্বয়ে গঠিত যৌথ বাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের মনে কিছুটা স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে।

রাউজান উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অংছিং মারমা জানান, নির্বাচনের সকল প্রস্তুতি চলছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাঠে কাজ করছে। আমরা আশাবাদী রাউজানে একটি অংশগ্রহণমূলক ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হবে। উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা পরান্টু চাকমাও জানিয়েছেন, নির্বাচনের সকল প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

উল্লেখ্য, রাউজান উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত চট্টগ্রাম-৬ আসনটি একটি বড় নির্বাচনী এলাকা। এ আসনে মোট ভোটকেন্দ্র ৯৫টি এবং ভোটকক্ষ রয়েছে ৬৩৯টি। মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৩৯ হাজার ৯৮৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৭৮ হাজার ৯৭১ জন এবং নারী ভোটার ১ লাখ ৬১ হাজার ১৭ জন।