সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

ধর্মঘটের মধ্যেই কঠোর বন্দর কর্তৃপক্ষ: আন্দোলনকারী ১৫ নেতার বাসা বরাদ্দ বাতিল

একুশে প্রতিবেদক | প্রকাশিতঃ ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ | ৯:২৮ অপরাহ্ন


চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি কোম্পানির হাতে ইজারা দেওয়ার প্রতিবাদে যখন বন্দর অচল করে দিয়েছে শ্রমিক-কর্মচারীরা, ঠিক তখনই কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করল বন্দর কর্তৃপক্ষ। আন্দোলনরত ১৫ জন শ্রমিক নেতার নামে বরাদ্দকৃত সরকারি বাসা বাতিলের আদেশ জারি করা হয়েছে।

আজ রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালক (প্রশাসন) স্বাক্ষরিত এক আদেশে এই বরাদ্দ বাতিলের কথা জানানো হয়। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আন্দোলন দমাতে এবং নেতাদের মানসিকভাবে দুর্বল করতেই প্রশাসনের এই ‘চাপে রাখার কৌশল’।

বন্দরের আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২ ফেব্রুয়ারি জনস্বার্থে ওই ১৫ জন কর্মচারীকে প্রেষণে মোংলা ও পায়রা বন্দরে বদলি করে সংযুক্ত করা হয়। বদলি আদেশের পর তাঁদের নিজ নিজ বিভাগ থেকে অবমুক্ত (রিলিজ) করা হয় এবং অবমুক্তির তারিখ থেকে দুই কার্যদিবসের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

কিন্তু নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলেও তাঁরা এখনো বদলিকৃত কর্মস্থলে যোগ দেননি। এ কারণে সরকারি বিধি মোতাবেক তাঁদের অনুকূলে বরাদ্দ করা বাসা (যদি থাকে) বাতিল করার জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় প্রধানদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বাসা বরাদ্দ বাতিল হওয়া এই ১৫ কর্মচারীর সবাই ‘চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ’-এর সামনের সারির নেতা। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক মো. হুমায়ুন কবীর ও যুগ্ম সমন্বয়ক মো. ইব্রাহিম খোকন।

অন্যারা হলেন—মো. ফরিদুর রহমান, মোহাম্মদ শফি উদ্দিন, রাশিদুল ইসলাম, আব্দুল্লাহ আল মামুন, মো. জহিরুল ইসলাম, খন্দকার মাসুদুজ্জামান, মো. হুমায়ুন কবীর (এসএস পেইন্টার), মো. শাকিল রায়হান, মানিক মিঝি, মো. শামসু মিয়া, মো. লিয়াকত আলী, আমিনুর রসুল বুলবুল ও মো. রাব্বানী।

এনসিটি ইজারা না দেওয়া, বন্দর চেয়ারম্যানকে প্রত্যাহারসহ চার দফা দাবিতে আজ রোববার সকাল থেকে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট শুরু করেছে বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ। এর আগে ৩১ জানুয়ারি থেকে তাঁরা ধারাবাহিক কর্মসূচি পালন করে আসছিলেন। গত বৃহস্পতিবার নৌপরিবহন উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকের পর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলেও, নেপথ্যে প্রশাসনের ভিন্ন তৎপরতা সেই আগুনে ঘি ঢেলে দেয়।

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, বৃহস্পতিবার আলোচনার মাধ্যমে কর্মবিরতি স্থগিত করার পরপরই বন্দর কর্তৃপক্ষ ‘দ্বিমুখী নীতি’ অবলম্বন করে। একদিকে আলোচনার কথা বলা হয়েছে, অন্যদিকে গোপনে মন্ত্রণালয় ও দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) চিঠি দিয়ে ১৫ নেতার সম্পদ তদন্ত ও দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার অনুরোধ জানানো হয়েছে। সেই চিঠিতে বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামানের স্বাক্ষর ছিল। এর জের ধরেই রোববার থেকে ফের লাগাতার ধর্মঘটে যায় শ্রমিকরা।

বাসা বাতিলের এই আদেশের ফলে বন্দরের প্রশাসন ও শ্রমিকদের মধ্যকার দূরত্ব আরও বাড়ল। আন্দোলনকারীরা বলছেন, বদলি, মামলা, দুদকের ভয় এবং এখন বাসা কেড়ে নেওয়ার হুমকি—সবই আন্দোলন দমানোর অপকৌশল। তবে এসব করে দাবি থেকে তাঁদের সরানো যাবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন শ্রমিক নেতারা।