
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে মোবাইল ফোন নিয়ে প্রবেশের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে এই নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত থাকবেন কেবল প্রিজাইডিং অফিসার এবং আইনশৃঙ্খলায় নিয়োজিত নির্দিষ্ট কিছু কর্মকর্তা। কিন্তু সংবাদ সংগ্রহের কাজে নিয়োজিত সাংবাদিকরা কেন্দ্রে মোবাইল ব্যবহার করতে পারবেন কি না, সে বিষয়ে ইসির নির্দেশনায় অস্পষ্টতা রয়ে গেছে।
এ বিষয়ে সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সকালে নির্বাচন কমিশনার বেগম তাহমিদা আহমদ যে মন্তব্য করেছেন, তাতে নতুন করে বিস্ময় ও ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে। সাংবাদিকদের মোবাইল ব্যবহারের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি পুলিশের বডি ওর্ন ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহের পরামর্শ দিয়েছেন।
সোমবার সকালে একটি গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে নির্বাচন কমিশনার বেগম তাহমিদা আহমদ বলেন, ‘আমি তো জানি ভোটকেন্দ্রে ভোটাররা মোবাইল নিতে পারবেন না। বাকিদের বিষয়ে আমার জানা নেই।’
কেন্দ্রে অনিয়ম হলে সাংবাদিকরা কীভাবে তার চিত্র ধারণ করবেন—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘পুলিশের বডি ওর্ন ক্যামেরা ও সিসি ক্যামেরা আছে, সেখান থেকে সাংবাদিকরা ছবি সংগ্রহ করতে পারবেন।’
সাংবাদিকদের মোবাইল ব্যবহারের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনার বিষয়ে তিনি আর কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। এ বিষয়ে ইসির অপর কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহর সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন তিনি।
ইসি সূত্রে জানা গেছে, ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে কেউ মোবাইল ফোন নিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন না। তবে জরুরি প্রয়োজনে যোগাযোগের জন্য কেবল ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিজাইডিং অফিসার, পুলিশ ইনচার্জ এবং ‘নির্বাচন সুরক্ষা ২০২৬’ অ্যাপ ব্যবহারকারী দুজন আনসার সদস্য বা ভিডিপি সদস্য মোবাইল ফোন সঙ্গে রাখতে পারবেন।
নির্বাচন কমিশনের এমন নির্দেশনায় সংবাদকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ও বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে। তারা বলছেন, ভোটকেন্দ্রে অনিয়ম বা কারচুপির প্রমাণ সংগ্রহে মোবাইল ফোন সাংবাদিকদের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার। পুলিশের ক্যামেরা বা সিসিটিভি ফুটেজের ওপর নির্ভর করা স্বাধীন সাংবাদিকতার অন্তরায় হতে পারে।