
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এমন একটি রাষ্ট্র গঠনের অঙ্গীকার করেছেন, যেখানে নাগরিকরা দিন-রাত নির্বিঘ্নে চলাফেরা করতে পারবেন। তিনি বলেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মেধার ভিত্তিতে মানুষের মূল্যায়ন হবে এবং পরিবার নিয়ে সবাই নিশ্চিন্তে বসবাস করতে পারবেন। সোমবার দুপুরে রাজধানীর বনানী বাজারসংলগ্ন মাঠে ঢাকা-১৭ আসনের নির্বাচনী জনসভায় ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে তিনি এসব কথা বলেন।
গত দেড় দশকের শাসনামলের কড়া সমালোচনা করে তারেক রহমান বলেন, দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করা হয়েছে। এই সময়ে বহু মানুষ হত্যা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। বিশেষ করে সাম্প্রতিক জুলাই আন্দোলনে বিপুলসংখ্যক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং অনেকেই পঙ্গুত্ববরণ করেছেন। তাদের এই আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত গণতান্ত্রিক পরিবেশ রক্ষা করাই এখন প্রধান দায়িত্ব বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বিএনপি এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চায়, যেখানে কোনো নাগরিককে ধর্ম, বর্ণ বা পরিচয়ের কারণে বৈষম্যের শিকার হতে হবে না বলে জানান তারেক রহমান। তিনি বলেন, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী কিংবা শ্রমজীবী—সবাই যেন নিরাপদ পরিবেশে কাজ করতে পারেন, সেই নিশ্চয়তা দেওয়া হবে। মানুষের মূল্যায়ন হবে কেবল তার যোগ্যতা ও মেধার ভিত্তিতে।
নারীদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বী করার ওপর গুরুত্বারোপ করে বিএনপি চেয়ারম্যান গৃহিণীদের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর পরিকল্পনার কথা জানান। এছাড়া কৃষকদের সরাসরি সরকারি সহায়তা পৌঁছে দিতে ‘কৃষি কার্ড’ চালুর প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। তার মতে, নাগরিক নিরাপত্তার সঙ্গে অর্থনৈতিক সচ্ছলতার গভীর সম্পর্ক রয়েছে। তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দক্ষতা উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
স্বাস্থ্যখাত নিয়ে পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, গ্রামের মানুষ এখনো প্রাথমিক চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত। বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দিয়ে ঘরে ঘরে সেবা পৌঁছে দেওয়া হবে। এতে একদিকে যেমন কর্মসংস্থান হবে, অন্যদিকে অসুস্থ হওয়ার আগেই মানুষের সচেতনতা বাড়বে, যা সুস্থ সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখবে।
তিনি আরও বলেন, গত দেড় দশকে উন্নয়নের নামে দুর্নীতি হয়েছে, অথচ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়নি। রাস্তাঘাট, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। এই অবস্থা থেকে উত্তরণে রাষ্ট্র পুনর্গঠন জরুরি।
সোমবার দিনব্যাপী ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাতটি এবং নিজের নির্বাচনী এলাকাসহ মোট আটটি জনসভায় অংশ নিচ্ছেন তারেক রহমান। বনানীর সভার পর ঢাকা-১০ আসনের কলাবাগান ক্রীড়া চক্র মাঠ, ঢাকা-৮ আসনের পীরজঙ্গী মাজার রোড, ঢাকা-৯ আসনের মান্ডা তরুণ সংঘ মাঠ এবং ঢাকা-৫ আসনের যাত্রাবাড়ী শহীদ ফারুক রোডের জনসভায় তার বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে।
এছাড়া দিনের শেষ ভাগে ঢাকা-৪ আসনের জুরাইন-দয়াগঞ্জ রোড, ঢাকা-৬ আসনের ধূপখোলা মাঠ এবং ঢাকা-৭ আসনের লালবাগ বালুর মাঠে জনসভায় বক্তব্য দেবেন তিনি। এর আগে রোববার তিনি ঢাকা উত্তরের ছয়টি সংসদীয় আসনে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিয়েছিলেন।