
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের রাজনৈতিক সমীকরণে ‘কিংমেকার’ হয়ে উঠেছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। চট্টগ্রাম, সিলেট ও ঢাকাসহ অন্তত ৪০টি আসনে জয়-পরাজয়ের ব্যবধান গড়ে দিতে পারে কওমি মাদরাসাভিত্তিক এই সংগঠনের বিশাল ভোটব্যাংক। যদিও অরাজনৈতিক দাবি করা সংগঠনটি এবার কার্যত দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। একপক্ষ বিএনপির ধানের শীষে এবং অন্যপক্ষ জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের ব্যানারে ভোটের মাঠে সক্রিয় রয়েছে।
হেফাজত নেতারা বলছেন, দেশে কওমি বা হেফাজত মতাদর্শী ভোট রয়েছে প্রায় ৬ থেকে ৭ শতাংশ। এর সিংহভাগই চট্টগ্রাম, সিলেট ও ঢাকা অঞ্চলে। চট্টগ্রাম বিভাগে ২০টি এবং সিলেট ও ঢাকা অঞ্চলে ১০টি করে আসনে এই ভোট ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়াবে। তাই শেষ মুহূর্তে এই বিশাল ভোটব্যাংক বাগে আনতে মরিয়া দুই জোটের প্রার্থীরা।
সংগঠনের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী জানান, আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী ও শীর্ষ নেতাদের নির্দেশনার বাইরে যাবেন না তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। আমিরের নির্দেশিত পথেই যাবে হেফাজতের ভোট। তবে ভিন্ন সুর শোনা গেছে আরেক যুগ্ম মহাসচিব ও চট্টগ্রাম-৫ আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী মাওলানা নাছির উদ্দিন মনিরের কণ্ঠে। তিনি দাবি করেন, হেফাজতের ত্যাগী নেতাকর্মীদের বড় অংশ ১১ দলীয় জোটকে সমর্থন দিয়েছে এবং এবার ‘ভোট বিপ্লব’ হবে।
জানা গেছে, এবার বিএনপির ব্যানারে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন নীলফামারী-১ আসনে মো. মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে মনির হোসাইন কাসেমী, সিলেট-৫ আসনে মো. উবায়দুল্লাহ ফারুক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে জুনায়েদ আল হাবীব এবং যশোর-৫ আসনে মুফতি রশিদ ওয়াক্কাস।
অন্যদিকে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট থেকে লড়ছেন নায়েবে আমির আহমেদ আবদুল কাদের, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক, মাওলানা নাছির উদ্দিন মনির, সহকারী মহাসচিব মাওলানা মুসলেহ উদ্দিন রাজু ও মাওলানা জালাল আহমেদ। নিজ নিজ জোটের হয়ে হেফাজতের ভোট টানতে কাজ করছেন তারা।
তবে ভোটের মাঠে নাটকীয় মোড় নিয়েছে হেফাজত আমিরের অবস্থানে। আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী ফটিকছড়ি আসনে বিএনপি প্রার্থী সরোয়ার আলমগীরকে সমর্থন দিয়েছেন। একইসঙ্গে তিনি জামায়াতে ইসলামীকে ভোট দেওয়া ‘হারাম’ বলে ঘোষণা দিয়েছেন। আমিরের নেতৃত্বে একটি বড় অংশ জামায়াতবিরোধী অবস্থানে থাকায় ভোটের সমীকরণে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা দেখছেন বিশ্লেষকরা।