সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

ফটিকছড়িতে ভোটের আগেই দুই প্রার্থীর সরে দাঁড়ানোয় নতুন সমীকরণ

৮৪ কেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ, নামল সেনাবাহিনী ও বিজিবি
ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি | প্রকাশিতঃ ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ | ৭:৫৬ অপরাহ্ন


আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনের ১৪০টি ভোটকেন্দ্রে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। নির্বাচন নিয়ে জনমনে কিছুটা উৎকণ্ঠা থাকলেও প্রশাসন অভয় দিয়ে জানিয়েছে, শঙ্কার কোনো কারণ নেই। শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে ইতিমধ্যেই ভোটকেন্দ্রসহ পুরো নির্বাচনী এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ১৪০টি কেন্দ্রের মধ্যে ৩টিকে ‘অধিক গুরুত্বপূর্ণ’ (ঝুঁকিপূর্ণ), ৮৪টিকে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ এবং ৫৩টিকে ‘সাধারণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সেলিম উদ্দিন জানান, গোয়েন্দা তথ্য ও অতীতের ঘটনা বিশ্লেষণ করেই এই নিরাপত্তার ছক তৈরি করা হয়েছে। তিনি বলেন, “প্রশাসনের নিরাপত্তা বলয়ে কেন্দ্রে কেন্দ্রে নির্বাচনী সরঞ্জাম পৌঁছে গেছে। আশা করি ভোটাররা উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।”

উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা রকর চাকমা জানান, এই আসনে মোট ৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন—বিএনপির সারোয়ার আলমগীর, জামায়াতের মো. নুরুল আমিন, সুপ্রিম পার্টির সৈয়দ সাইফুউদ্দিন মাইজভান্ডারী, গণঅধিকার পরিষদের রবিউল হাসান, ইসলামী আন্দোলনের মো. জুলফিকার আলী মান্নান, জনতার দলের মো. গোলাম নওশের আলী এবং স্বতন্ত্র আহমেদ কবির ও জিন্নাত আকতার।

তবে নির্বাচনের শেষ মুহূর্তে এসে রাজনৈতিক সমীকরণে নাটকীয় পরিবর্তন দেখা গেছে। স্বতন্ত্র প্রার্থী ফুটবল প্রতীকের আহমেদ কবির জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীকে এবং গণঅধিকার পরিষদের ট্রাক প্রতীকের রবিউল হাসান বিএনপির প্রার্থীকে সমর্থন জানিয়ে নির্বাচনী কার্যক্রম থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। উভয়ে সংবাদ সম্মেলন করে তাদের সমর্থনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ফটিকছড়ি আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৮০ হাজার ৭৮৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৫১ হাজার ৯৪২ জন, নারী ২ লাখ ২৮ হাজার ৮৪১ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ১ জন ভোটার রয়েছেন। পোস্টাল ভোটে অংশ নেবেন ৭ হাজার ২৫৫ জন। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ১৪০টি ভোটকেন্দ্রের ৯০০টি ভোটকক্ষে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে বিশাল নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহীম জানান, নির্বাচনে ৯ জন এক্সিকিউটিভ ও ২ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাঠে রয়েছেন। এছাড়া ১৬ জন র‍্যাব, ৫ প্লাটুন বিজিবি, ১৫০ জন সেনাসদস্য, ২০ জন আনসার এবং প্রতিটি ইউনিয়নে পুলিশের টহল দল কাজ করছে। দুই থানায় ৫টি স্ট্রাইকিং ফোর্স সক্রিয় রয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে ২ জন পুলিশ ও ৩ জন সশস্ত্র আনসার এবং ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সব মিলিয়ে ১ হাজার ৮৪০ জন আনসার সদস্য শৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত আছেন।