
চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনের পূর্ব সুয়াবিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে পোলিং এজেন্টদের কাছ থেকে নির্ধারিত সময়ের আগেই ফলাফল শিটে (রেজাল্ট শিট) স্বাক্ষর নেওয়াকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রের বাইরে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার আগেই কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার মাসুদ বিন রশিদ দরজা বন্ধ করে কয়েকজন পোলিং এজেন্টের কাছ থেকে রেজাল্ট শিটে আগাম স্বাক্ষর নিয়ে নেন। বিষয়টি জানাজানি হলে কেন্দ্রের ভেতরে ও বাইরে উপস্থিত বিএনপি ও জামায়াত সমর্থিত এজেন্ট এবং কর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়, যা পরে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় রূপ নেয়। এতে কেন্দ্র এলাকায় সাময়িক আতঙ্ক ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত প্রিজাইডিং অফিসার মাসুদ বিন রশিদ বলেন, “ভোট শেষ হলে সবাইকে একসঙ্গে পাওয়া মুশকিল হয়। সবাই উপস্থিত ছিলেন, তাই সরলমনে স্বাক্ষর নিয়েছিলাম। বিষয়টি এতদূর গড়াবে বুঝতে পারিনি। এতে আমার কোনো অসৎ উদ্দেশ্য ছিল না।”
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. সাঈদ মো. ইব্রাহিম বলেন, “সময়ের আগেই এজেন্টদের কাছ থেকে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গে প্রশাসন কঠোর হস্তক্ষেপ করে। যেসব কাগজে অগ্রিম স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছিল, সেগুলো সবার সামনে ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তড়িৎ উপস্থিতিতে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে এবং বর্তমানে কেন্দ্রের পরিবেশ শান্ত রয়েছে। নির্বাচন সুষ্ঠু রাখতে প্রশাসন কোনো অনিয়ম ছাড় দেবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।