সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

১৭ বছর পর ভোটোৎসবে মাতল ফটিকছড়ি, দু-এক কেন্দ্রে উত্তেজনা

ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি | প্রকাশিতঃ ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ | ৬:২৬ অপরাহ্ন


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে দু-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচনকে ঘিরে জনমনে নানান শঙ্কা থাকলেও শেষ পর্যন্ত ভোটাররা স্বতঃস্ফূর্তভাবে কেন্দ্রে গিয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার দেওয়া তথ্যমতে, চট্টগ্রামের সব আসনে গড়ে মোট ভোট পড়ার হার ৪০ শতাংশ।

এই আসনে মোট আটজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তারা হলেন বিএনপির সরোয়ার আলমগীর, জামায়াতের মো. নুরুল আমিন, সুপ্রিম পার্টির সৈয়দ সাইফুদ্দিন মাইজভান্ডারী, গণঅধিকার পরিষদের রবিউল হাসান, ইসলামী আন্দোলনের মো. জুলফিকার আলী মান্নান, জনতার দলের মো. গোলাম নওশের আলী এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী আহমেদ কবির ও জিন্নাত আকতার।

সরেজমিনে ১৪০টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে অন্তত ১০টি কেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, সকাল থেকেই ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। বিশেষ করে সকাল ৯টায় নুর আহম্মদ ইঞ্জিনিয়ার উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে নারী ভোটারদের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। বিএনপি প্রার্থী সরোয়ার আলমগীর নেতাকর্মীদের নিয়ে এই কেন্দ্রে নিজের ভোট দেন এবং ভোটারদের খোঁজখবর নেন। ওই কেন্দ্রের ভোটার মুনিরা বেগম জানান, কোনো বিশৃঙ্খলা ছাড়াই সুন্দর পরিবেশে ভোট দিতে পেরে তিনি খুশি।

তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কয়েকটি কেন্দ্রে উত্তজনা ও অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া যায়। বেলা দুইটার দিকে পূর্ব-সুয়াবিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে পোলিং এজেন্টদের কাছ থেকে নির্ধারিত সময়ের আগেই রেজাল্ট শিটে স্বাক্ষর নেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এতে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

খবর পেয়ে ইউএনও মো. সাঈদ মো. ইব্রাহিম ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা পান এবং সবার সামনেই সেসব শিট ছিঁড়ে ফেলে পরিস্থিতি শান্ত করেন। ওই কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মাসুদ বিন রশিদ দাবি করেন, ভোট শেষে সবাইকে একসঙ্গে পাওয়া কঠিন হবে ভেবে সরলমনে তিনি স্বাক্ষর নিয়েছিলেন, এর পেছনে তার কোনো অসৎ উদ্দেশ্য ছিল না।

এর আগে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে পাইন্দং উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে জামায়াত ও বিএনপি কর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। ওই কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মো. ফজলুল কাদের জানান, কেন্দ্রের বাইরে কিছু লোক গোলযোগ করার চেষ্টা করলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তা প্রতিহত করে।

এছাড়া দুপুর ১২টায় আজিমনগর আহমদিয়া রহমানিয়া উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে দু-একটি জাল ভোটের অভিযোগ তোলেন এজেন্টরা। নাজিরহাট আহমদিয়া কামিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে জামায়াতের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট অ্যাডভোকেট ইসমাইল গনি অভিযোগ করেন, সেখানে বিএনপির নেতাকর্মীরা অবাধে যাতায়াত করছেন এবং জাল ভোট দেওয়া হচ্ছে। তবে ওই কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মো. আবু তালেব জাল ভোটের অভিযোগ অস্বীকার করেন।

বিএনপি প্রার্থী সরোয়ার আলমগীর বলেন, মানুষ নিজের ইচ্ছায় ভোট দিয়েছে এবং প্রশাসন কঠোর অবস্থানে ছিল। শান্তিপূর্ণ নির্বাচনে তিনি জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী।

অন্যদিকে জামায়াত প্রার্থী মো. নুরুল আমিন সকালে পাইন্দং শ্বেতকুয়া পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভোট দিয়ে বলেন, ভোট সুন্দর ও সুষ্ঠু হচ্ছে, তবে কিছু কেন্দ্র থেকে তাদের এজেন্টদের বের করে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে যা সংশ্লিষ্টদের জানানো হয়েছে।

বাবুনগর উচ্চ বিদ্যালয়, ফটিকছড়ি সরকারি কলেজ, নানুপুর গাউছিয়া মাদ্রাসা, মধ্য দৌলতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বেশ কয়েকটি কেন্দ্রে উৎসবমুখর পরিবেশ লক্ষ্য করা গেছে। দীর্ঘ ১৭ বছর পর নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পেরে ভোটাররা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহীম বলেন, ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। দু-একটি কেন্দ্রে কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া বড় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বাত্মক ভূমিকা পালন করেছে।