
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কক্সবাজার-০১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। বিজয়ের পর শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক স্ট্যাটাসের মাধ্যমে তিনি নির্বাচনী এলাকার জনগণ, দলীয় নেতাকর্মী এবং নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।
ফেসবুক পোস্টে সালাহউদ্দিন আহমদ উল্লেখ করেন, এই বিজয় কেবল একটি নির্বাচনী ফলাফল নয়, বরং এটি জনগণের স্বাধিকার ও হারানো মর্যাদা পুনরুদ্ধারের এক ঐতিহাসিক দলিল। তিনি চকরিয়া, পেকুয়া, মাতামুহুরী ও পৌরসভার ভোটার এবং বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের লড়াকু নেতাকর্মীদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, নেতাকর্মীদের অদম্য সাহস, ত্যাগ এবং দীর্ঘ সংগ্রামের ফসল এই বিজয়। ভোটের কঠিন লড়াইয়ে যারা তাকে বিশ্বাস করেছেন এবং দিনরাত পরিশ্রম করেছেন, তাদের প্রতি তিনি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, বিজয় আমাদের উদ্ধত করে না; বরং দায়বদ্ধ করে তোলে। তিনি এই মাহেন্দ্রক্ষণে কোনো প্রকার কৃত্রিম উন্মাদনায় না মেতে মহান রবের দরবারে সিজদাবনত হয়ে শুকরিয়া আদায়ের আহ্বান জানান। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, অহংকার যেন আমাদের স্পর্শ না করে এবং ক্ষমতা যেন মোহাচ্ছন্ন না করে। জনসেবার একনিষ্ঠ মানসিকতাই হোক আমাদের চারিত্রিক ভূষণ।
তিনি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর প্রদর্শিত রাজনৈতিক সৌজন্য ও অভিনন্দন বার্তাকে সাধুবাদ জানান। রাজনীতির ময়দানে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সৌহার্দ্যের এই সংস্কৃতি অব্যাহত রাখার আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার অধ্যায় আজ সমাপ্ত। এখন সময় একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ বিনির্মাণের।
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত বাংলাদেশকে আরও সমৃদ্ধ ও মর্যাদাবান রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন সালাহউদ্দিন আহমদ। একইসঙ্গে তিনি ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের পবিত্র রক্ত ও আত্মত্যাগের মর্যাদা সমুন্নত রাখার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, অমর শহীদদের স্বপ্নের ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত আমাদের গণতান্ত্রিক সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে।
সবশেষে তিনি এমন এক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় জানান, যেখানে মতাদর্শিক ভিন্নতা ও সুস্থ বিতর্ক থাকবে, কিন্তু দেশের উন্নয়ন, গণতন্ত্র ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে সবাই এক ও অবিভাজ্য হবেন। সততা, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন নবনির্বাচিত এই সংসদ সদস্য।