সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

সোম বা মঙ্গলবার এমপিদের শপথ, সিইসিই পড়াবেন শপথবাক্য

দ্রুত ক্ষমতা হস্তান্তরের পথে অন্তর্বর্তী সরকার
একুশে প্রতিবেদক | প্রকাশিতঃ ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ | ৮:৫৮ পূর্বাহ্ন

বাংলাদেশ সরকার
অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার দ্রুততম সময়ের মধ্যে নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী সোমবার বা মঙ্গলবার নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হতে পারে। স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর অনুপস্থিতি এবং ডেপুটি স্পিকার কারাগারে থাকায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন নবনির্বাচিতদের শপথ বাক্য পাঠ করাবেন বলে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে।

সংবিধান অনুযায়ী, সাধারণত স্পিকার নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়ান। কিন্তু দ্বাদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে জনসমক্ষে নেই এবং গত সেপ্টেম্বরে তিনি পদত্যাগ করেছেন। অন্যদিকে ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন। সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, গেজেট প্রকাশের তিন দিনের মধ্যে স্পিকার বা তার মনোনীত ব্যক্তি শপথ পড়াতে ব্যর্থ হলে, পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার শপথ পড়াবেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকার এই সাংবিধানিক বিধানটিই কার্যকর করার পরিকল্পনা করছে।

সরকারের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, শুক্রবার রাত বা শনিবারের মধ্যে বিজয়ীদের গেজেট প্রকাশ করা হতে পারে। এরপর সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী তিন দিন অপেক্ষা করার পর সিইসি শপথ পড়াবেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, যেদিন সংসদ সদস্যরা শপথ নেবেন, সেদিনই দেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যরাও শপথ নিতে পারেন। ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রস্তুতিমূলক কাজ শেষ করতে তিন-চার দিন সময় লাগতে পারে।

ইসি সচিব আখতার আহমেদ শুক্রবার বিকেলে সাংবাদিকদের জানান, রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছ থেকে ফলাফল বিবরণী পাওয়ার পরপরই দ্রুততম সময়ে গেজেট প্রকাশ করা হবে। ইসি এই প্রক্রিয়ায় কোনো দেরি করতে চায় না।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৭টি আসনের বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে বিএনপি ২০৯টি এবং তাদের শরিকরা ৩টি আসনে জয়ী হয়েছে। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি এবং তাদের জোটের শরিকরা ৯টি আসনে জয় পেয়েছে। উচ্চ আদালতের নির্দেশনায় দুটি আসনের ফল স্থগিত রয়েছে।

আইন বিশ্লেষকরা বলছেন, এবারের নির্বাচনটি বিশেষ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সংবিধানের ১২৩(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করার বিধান থাকলেও দেড় বছর পর এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। তাই শপথ গ্রহণ এবং সরকার গঠনের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক ঐকমত্যের ওপর ভিত্তি করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। রাজনৈতিক দলগুলো থেকেও দ্রুত শপথ ও ক্ষমতা হস্তান্তরের বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে।