
সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও তাদের নেতৃত্বাধীন জোট। প্রাপ্ত ফলাফলের ভিত্তিতে সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা হতে যাচ্ছেন দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান। অন্যদিকে বিরোধীদলীয় উপনেতা হিসেবে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের নাম জোরালোভাবে আলোচনায় রয়েছে। ১১ দলীয় জোট ও জামায়াতের নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলো এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী এককভাবে ৬৮টি আসনে জয় পেয়েছে। তাদের শরিক জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৬টি এবং খেলাফত মজলিস ৩টি আসনে বিজয়ী হয়েছে। সব মিলিয়ে ১১ দলীয় জোটের মোট আসন সংখ্যা ৭৭। এছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ১টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৭টি আসনে জয়ী হয়েছেন। সংসদীয় রীতিনীতি অনুযায়ী সবচেয়ে বড় দলের প্রধান হিসেবে ডা. শফিকুর রহমানই পূর্ণমন্ত্রীর মর্যাদায় বিরোধীদলীয় নেতার আসন অলঙ্কৃত করবেন বলে দলীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে।
বিরোধীদলীয় উপনেতা পদের জন্য বর্তমানে চারজনের নাম আলোচনায় রয়েছে। এর মধ্যে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম রূপকার ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে এই পদে দেখার আগ্রহ অনেকের। তবে জামায়াতে ইসলামীর মধ্য থেকেও তিনজনের নাম এসেছে। তাঁরা হলেন—১৯৮৬ সালের সংসদে জামায়াতের সংসদীয় দলের নেতা অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, ফাঁসির মঞ্চ থেকে ফিরে এসে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া এটিএম আজহারুল ইসলাম এবং সাম্প্রতিক সময়ে রাজনীতির মাঠে আলোচিত ব্যক্তিত্ব ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। জামায়াতের ভেতর থেকে অধ্যাপক মুজিবুর রহমানের সম্ভাবনাই বেশি বলে জানা গেছে।
বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও হুইপ পদের জন্যও দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়েছে। এই তালিকায় আছেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল এবং সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ। শরিক দল এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক হাসনাত আব্দুল্লাহকে বিরোধী দলের হুইপ করা হতে পারে। এছাড়া চট্টগ্রামের শাহজাহান চৌধুরী এবং সাতক্ষীরার গাজী নজরুল ইসলামকে সম্মানজনক কোনো পদ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।
বিরোধী দল থেকে একজন ডেপুটি স্পিকার মনোনীত হওয়ার রেওয়াজ রয়েছে। এই পদের জন্য আলোচনায় আছেন দলের সাবেক আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর ছেলে ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন এবং মীর কাসেম আলীর ছেলে, দীর্ঘ সময় গুম থাকা ব্যারিস্টার আহমদ বিন কাসেম আরমান। তবে ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেনের সম্ভাবনাই বেশি বলে সূত্র জানিয়েছে।
জামায়াতের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সভাপতি মাওলানা এটিএম মাসুম এ বিষয়ে বলেন, সংসদের এসব পদ নিয়ে দলের এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তাছাড়া ১১ দলীয় জোট টিকিয়ে রাখার স্বার্থে শরিকদের জন্যও ছাড় দেওয়ার মানসিকতা রয়েছে আমাদের। জামায়াত এবং ১১ দলীয় ঐক্যের সঙ্গে বৈঠকের পরই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে।