সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

অনিশ্চয়তা কাটিয়ে বাঁশখালী আইনজীবী সমিতির তফসিল, প্রচারণায় কড়াকড়ি

বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি | প্রকাশিতঃ ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ | ৮:৫৬ অপরাহ্ন


দীর্ঘ অনিশ্চয়তা ও পাল্টাপাল্টি অবস্থানের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে চট্টগ্রামের বাঁশখালী আইনজীবী সমিতির ২০২৬-২০২৭ মেয়াদের নির্বাচনের পূর্ণাঙ্গ তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে।

রবিবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার অ্যাডভোকেট তকছিমুল গণী ইমন, নির্বাচন কমিশনার আমিনুল ইসলাম ও রাকিব উল ইসলাম চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক জরুরি নোটিশে জানানো হয়, আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। একই সঙ্গে নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে কঠোর আচরণবিধি জারি করা হয়েছে, যেখানে প্রার্থীদের নির্বাচনী ব্যয় সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা নির্ধারণসহ পোস্টার ও ব্যানার ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, ১৬ ও ১৭ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৪টা পর্যন্ত মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করা যাবে। ১৮ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৪টার মধ্যে মনোনয়নপত্র জমা এবং ১৯ ফেব্রুয়ারি যাচাই-বাছাই ও প্রত্যাহারের দিন ধার্য করা হয়েছে। ২২ ফেব্রুয়ারি আইনজীবী মিলনায়তনে দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলবে।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার অ্যাডভোকেট তকছিমুল গণী ইমন জানান, প্রচারণাকালে কোনো প্রার্থী বা সদস্য সম্পর্কে কটূক্তি করা যাবে না। ভোটারদের উপহার, খাদ্যসামগ্রী বা নগদ অর্থ প্রদানের মাধ্যমে প্রলোভন দেখানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। আচরণবিধি লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করা হবে। এছাড়া ২১ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা ৬টার পর সব ধরনের প্রচারণা বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সমিতির রেওয়াজ অনুযায়ী প্রতি বছর ২০ জানুয়ারি নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও এবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কারণে তা পিছিয়ে যায়। এ নিয়ে সৃষ্ট জটিলতার মধ্যে একটি পক্ষ ‘অ্যাডহক কমিটি’ গঠন করলে আদালত প্রাঙ্গণে উত্তেজনা ও বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। তবে রবিবার নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ২১ জানুয়ারির সাধারণ সভার সিদ্ধান্ত ও সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে নির্বাচন সম্পন্নের দায়িত্ব তাদের দেওয়া হয়েছে।

নির্বাচন নিয়ে অচলাবস্থার মধ্যে সদ্য বিদায়ী কমিটির নেতাদের অভিযোগ ছিল, নিয়মবহির্ভূতভাবে গঠিত অ্যাডহক কমিটিতে ইসকন সদস্য রয়েছেন। কমিটির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট দিলীপ কুমার দাসের বিরুদ্ধে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যাকাণ্ডের দিন ঘটনাস্থলে থাকার অভিযোগও তোলা হয়। তবে দিলীপ কুমার দাস এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, তিনি কোনো রাজনৈতিক বা ধর্মীয় উগ্র সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত নন এবং ঘটনার দিন তিনি ঘটনাস্থলে ছিলেন না। সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার প্রমাণ তাঁর কাছে রয়েছে বলেও জানান তিনি।

এদিকে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই অ্যাডহক কমিটি বার ফরম ও ওকালতনামা ছাপিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার। তিনি জানান, চাপের মুখে দুই সহকারী কমিশনার পদত্যাগ করেছেন। তবে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের পরামর্শে নতুন কমিশনার নিয়োগ দিয়ে নির্বাচন সম্পন্ন করা হবে।

বিপরীতে অ্যাডহক কমিটির আহ্বায়ক দিলীপ কুমার দাসের দাবি, গঠনতন্ত্রের ১০ ধারা অনুযায়ী নির্বাচন না হলে অ্যাডহক কমিটি গঠনের বিধান রয়েছে। পুরনো কমিটির কাছে কাগজপত্র চেয়েও না পাওয়ায় বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি কমাতে তারা ওকালতনামা ও বার ফরম ছাপাতে বাধ্য হয়েছেন।

উল্লেখ্য, বাঁশখালী আইনজীবী সমিতির এই অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও নির্বাচন নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা প্রসঙ্গে গত ৪ ফেব্রুয়ারি ‘অনিশ্চয়তায় বাঁশখালী আইনজীবী সমিতির নির্বাচন’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল একুশে পত্রিকা। অবশেষে সেই অনিশ্চয়তা কাটিয়ে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করায় সাধারণ আইনজীবীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।