সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

দুই মেয়েকে বিক্রির পর এবার স্ত্রীকে খুন করলেন নুরুল হুদা

দক্ষিণ চট্টগ্রাম প্রতিনিধি | প্রকাশিতঃ ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ | ৬:০৩ অপরাহ্ন


চট্টগ্রামের চন্দনাইশে সদ্যপ্রসূত এক কন্যাসন্তান রেখে বাক্‌প্রতিবন্ধী স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে; ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত স্বামী পলাতক রয়েছেন। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে উপজেলার দোহাজারী পৌরসভার জামিরজুরি এলাকার ঘোড়াপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে।

নিহত গৃহবধূর নাম সালমা আক্তার (৩২)। তিনি ওই এলাকার লেবু বেপারি বাড়ির মৃত শামসুল আলমের মেয়ে। অভিযুক্ত স্বামীর নাম নুরুল হুদা (৩৭)। তিনি পেশায় বাসের চালকের সহকারী (হেলপার) এবং ইসাক মিয়ার ছেলে।

স্থানীয় প্রতিবেশী ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শামসুল আলমের মেয়ে বাক্‌প্রতিবন্ধী সালমার সঙ্গে নুরুল হুদার বিয়ে হয়। তাদের সংসারে তিনটি কন্যাসন্তান জন্ম নেয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, এর আগে দুই মেয়েকে টাকার বিনিময়ে অন্যের কাছে বিক্রি করে দিয়েছিলেন নুরুল হুদা। চার বছর বয়সী অপর মেয়ে নুরজাহান তার নানির কাছে থাকে। মাত্র কয়েক দিন আগে সালমা আরেকটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেন।

স্থানীয়রা জানান, রোববার রাতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কোনো বিষয় নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হলে একপর্যায়ে নুরুল হুদা স্ত্রীকে বেদম প্রহার করেন। এতে ঘটনাস্থলেই সালমার মৃত্যু হলে তিনি পালিয়ে যান।

চন্দনাইশ থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি) মো. ইলিয়াছ খান জানান, জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করে জানানো হয়, এক নারীকে হত্যার পর লাশ গোপনে দাফনের চেষ্টা চলছে। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে সালমার লাশ উদ্ধার করে। সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর ময়নাতদন্তের জন্য লাশ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ কর্মকর্তা ইলিয়াছ খান আরও বলেন, ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত নুরুল হুদা পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত আছে এবং এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।