
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচিত করা হয়েছে; একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীসহ ৫০ সদস্যের নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করেছে দলটি। মঙ্গলবার সংসদ ভবনে নবনির্বাচিত এমপিদের শপথ গ্রহণ শেষে সংসদীয় দলের প্রথম সভায় তারেক রহমানকে নেতা নির্বাচিত করা হয়। এদিকে মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানের জন্য ডাক পেয়েছেন প্রবীণ ও তরুণ রাজনীতিবিদরা।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, নতুন সরকারে প্রধানমন্ত্রীসহ মোট ৫০ জন সদস্য থাকছেন। মঙ্গলবার দুপুর সোয়া ১টার দিকে সচিবালয় থেকে মন্ত্রীদের বহনের জন্য ৪৯টি গাড়ি জাতীয় সংসদের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। এর আগে মঙ্গলবার বেলা পৌনে ১১টার দিকে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের শপথ কক্ষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীনের কাছে প্রথম ধাপে শপথ নেন বিএনপির নবনির্বাচিত এমপিরা।
তবে শপথ গ্রহণের ক্ষেত্রে সংবিধান সংস্কার পরিষদ নিয়ে তৈরি হয়েছে বিভক্তি। বিএনপির এমপিরা কেবল সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিলেও ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’-এর সদস্য হিসেবে শপথ নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে শপথ অনুষ্ঠানের আগে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, তারা কেউ সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হননি এবং সংবিধানে এখনো বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত হয়নি। তাই আইনি কাঠামোর বাইরে গিয়ে তারা এই শপথ নিতে পারেন না। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, নির্বাচনে বিজয়ী দল বিএনপি ‘জুলাই সনদ’ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করবে। জনগণ যে প্রত্যাশা নিয়ে বিএনপিকে সমর্থন দিয়েছে, সরকার গঠনের পর থেকেই তা পূরণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
বিএনপি শপথ না নিলেও জামায়াতে ইসলামী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ভিন্ন পথে হেঁটেছে। দুপুর ১২টা ২৪ মিনিটে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে দলটির এবং ১১ দলীয় জোটের এমপিরা সংসদ সদস্য ও সংবিধান সংস্কার পরিষদ—উভয় পদের জন্যই শপথ নিয়েছেন। একইভাবে এনসিপির নির্বাচিত ছয়জন সংসদ সদস্যও দুটি শপথই গ্রহণ করেছেন।
এদিকে নতুন মন্ত্রিসভায় কারা থাকছেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে ব্যাপক আলোচনা। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ফোন পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ড. আব্দুল মঈন খান। এছাড়া সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল ও নবনির্বাচিত এমপি মো. আসাদুজ্জামান, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু, যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ও জহির উদ্দিন স্বপন মন্ত্রিসভায় ডাক পেয়েছেন।
তালিকায় আরও রয়েছেন বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, বিশেষ সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা, সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত ও শামা ওবায়েদ। এছাড়া সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ও চাঁদপুর-১ আসনের এমপি আ ন ম এহসানুল হক মিলনের একান্ত সচিব এম এ ফয়েজ নিশ্চিত করেছেন যে, মিলনকেও মন্ত্রিসভায় যোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। সিলেট-৪ আসনের এমপি ও সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীও ফোন পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বিএনপির বাইরে অন্য দল ও তরুণ নেতৃত্বের মধ্যে মন্ত্রিসভায় ডাক পেয়েছেন পটুয়াখালী-৩ আসন থেকে নির্বাচিত ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নূর এবং জাতীয় গণতান্ত্রিক আন্দোলনের (এনডিএম) চেয়ারম্যান ও ঢাকা-১৩ আসনের এমপি ববি হাজ্জাজ। ববি হাজ্জাজ নিজেই বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, তিনি মন্ত্রিসভায় যোগ দেওয়ার ডাক পেয়েছেন এবং সবার দোয়া চেয়েছেন।
মন্ত্রিসভায় ডাক পাওয়া অন্য বিএনপি নেতাদের মধ্যে রয়েছেন আমিনুল হক, ফরহাদ হোসেন আজাদ, রশিদুজ্জামান মিল্লাত, মীর হেলাল ও মো. শরীফুল আলম। মঙ্গলবার বিকেলেই বঙ্গভবনে নয়, বরং সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হবে এই নতুন মন্ত্রিসভার শপথ, যেখানে তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন।