সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

কক্সবাজারের ইতিহাসে প্রথম পূর্ণ মন্ত্রী সালাহউদ্দিন, পেলেন স্বরাষ্ট্র

একুশে প্রতিবেদক | প্রকাশিতঃ ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ | ৫:৩৮ অপরাহ্ন


সরকারি চাকরি ছেড়ে রাজনীতির মাঠে নামা, আন্দোলন-সংগ্রামের দীর্ঘ পথপাড়ি দেওয়া এবং ‘নিশ্চিত মৃত্যুর মুখ’ থেকে ফিরে আসা বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমদ অবশেষে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৪টা ২০ মিনিটে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাকে শপথবাক্য পাঠ করান। দলীয় ও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো আভাস দিয়েছে, দলের নীতিনির্ধারণী ফোরামের অন্যতম এই সদস্যকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদের এই শপথ গ্রহণের মাধ্যমে ইতিহাস সৃষ্টি হলো। স্বাধীনতার পর এই প্রথম কক্সবাজার জেলা থেকে কেউ পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেলেন। এর আগে ২০০১ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারে তিনি যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। পাকিস্তান আমলে কক্সবাজারের ফরিদ আহমদ কেন্দ্রীয় শ্রমমন্ত্রী ছিলেন, যিনি বিএনপি থেকে নির্বাচিত সাবেক দুই সংসদ সদস্য খালেকুজ্জামান ও সহীদুজ্জামানের বাবা।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সালাহউদ্দিন আহমদ তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল ফারুখকে ৯৫ হাজার ৮৩০ ভোটের বিপুল ব্যবধানে পরাজিত করেন। মঙ্গলবার সকালে তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেন এবং বিকেলেই মন্ত্রিসভায় যুক্ত হলেন।

সালাহউদ্দিন আহমদের রাজনৈতিক জীবন নাটকীয়তায় ভরা। ২০১৫ সালে বিএনপির মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ১০ মার্চ তিনি গুমের শিকার হন। দীর্ঘ ৬২ দিন পর ১১ মে ভারতের শিলংয়ে মানসিক বিপর্যস্ত অবস্থায় তার খোঁজ মেলে। সেখানে আইনি লড়াই ও নির্বাসন শেষে প্রায় ১০ বছর পর ২০২৪ সালের ১১ আগস্ট দেশে ফেরেন তিনি। শিলংয়ে অবস্থানকালীনই তাকে বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য করা হয়।

শপথ গ্রহণের আগে গত ৯ ফেব্রুয়ারি চকরিয়ায় এক নির্বাচনী জনসভায় সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছিলেন, ‘‘আমার বেঁচে থাকার কথা ছিল না, আমাকে গুম করা হয়েছিল হত্যার উদ্দেশে। আপনারা দোয়া করেছেন, রাব্বুল আলামিন আমাকে বাঁচিয়ে রেখে নতুন জীবন দিয়েছেন। আমার এই বর্ধিত হায়াত এ দেশের মানুষের সেবা করার জন্য।’’

১৯৬২ সালের ৩০ জুন কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার সিকদার পাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন সালাহউদ্দিন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ছাত্রজীবনে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করা সালাহউদ্দিন ১৯৮৫ সালে ৭ম বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে প্রশাসনে যোগ দেন। ১৯৯১ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) হন। পরে ১৯৯৬ সালে সরকারি চাকরি ইস্তফা দিয়ে কক্সবাজার জেলা বিএনপির হাল ধরেন এবং ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তার স্ত্রী হাসিনা আহমদও ২০০৮ সালে সংসদ সদস্য ছিলেন।

কক্সবাজার জেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক ইউসুফ বদরী তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, পুরো জেলাবাসীর জন্য আজ গৌরবের দিন। আমরা একজন যোগ্য মানুষকে মন্ত্রী হিসেবে পেলাম। ইনশাআল্লাহ সালাহউদ্দিন আহমদের নেতৃত্বে কক্সবাজার আরও সমৃদ্ধ হবে।