সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

পাহাড়ে খাদ্যাভাব, লোকালয়ে নেমে ফসলি জমি তছনছ করছে হাতির পাল

আতঙ্কে ফাইতংয়ের কৃষকরা
চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি | প্রকাশিতঃ ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ | ৭:৪১ অপরাহ্ন


কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার বানিয়ারছড়ার পূর্বপাশের লোকালয় এবং বান্দরবানের লামা উপজেলার ফাইতং ইউনিয়নে সন্ধ্যা নামলেই নেমে আসছে বন্যহাতির পাল। দলবেঁধে এসব হাতি রাতের আঁধারে কৃষকের বোরো ধান ও সবজি ক্ষেত তছনছ করে দিচ্ছে। হাতির এমন অব্যাহত তাণ্ডবে এই জনপদের মানুষের মাঝে ছড়িয়ে পড়েছে চরম উদ্বেগ আর আতঙ্ক।

সর্বশেষ মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে লামার ফাইতং ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের খেদারবান পাড়া এলাকায় একদল বন্যহাতি হানা দেয়। এ সময় হাতির পালটি স্থানীয় কৃষক আনোয়ার হোসেনের বোরো ধান ও রকমারি সবজি ক্ষেতে ঢুকে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। হাতির পায়ের নিচে পিষ্ট হয়ে নষ্ট হয়ে যায় কৃষক আনোয়ার হোসেনের কষ্টের ফসল।

স্থানীয়রা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে পাহাড়ি এলাকার বিভিন্ন জনপদে বন্যহাতির উপদ্রব ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। বিশেষ করে পাহাড়ের পাদদেশে কায়িক শ্রমে ফলানো ফসল চোখের সামনে নষ্ট হতে দেখে কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়ছেন। কেবল আনোয়ার হোসেনই নন, তার মতো স্থানীয় কৃষক নুরুচ্ছাফা, সাহাব উদ্দিন, মোহাম্মদ রাকিব, জুবাইর, মিজবাহ উদ্দীন, জসিম উদ্দিন ও এখলাস মিয়াসহ অনেকের ক্ষেতের ফসল ইতোমধ্যে বন্যহাতির তাণ্ডবে নষ্ট হয়ে গেছে।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা জানান, প্রতিবছর বোরো ধান রোপণ মৌসুমে বন্যহাতির পাল লোকালয়ে ঢুকে বিঘা বিঘা জমির ধান খেয়ে ফেলে এবং পা দিয়ে মাড়িয়ে নষ্ট করে দেয়। মশাল জ্বালিয়ে বা পাহারা দিয়েও অনেক সময় হাতির দলকে ঠেকানো যাচ্ছে না। ফলে হাতির ভয়ে অনেক এলাকার মানুষ রাতে ঠিকমতো ঘুমাতেও পারছেন না।

এ বিষয়ে লামা বনবিভাগের ডলুছড়ি রেঞ্জ কর্মকর্তা এস.এম. হাবিবুল্লাহ বলেন, প্রতিবছর বন্যহাতির আক্রমণে এলাকায় সাধারণ কৃষকের ফসলহানির ঘটনা ঘটছে। জানমালের ক্ষতির পাশাপাশি ক্ষুধার্ত বন্যহাতির দল অনেক সময় কৃষকের ঘরবাড়িও গুঁড়িয়ে দিচ্ছে। এতে গৃহহীন হয়ে পড়ার পাশাপাশি প্রাণহানির ঝুঁকিও বাড়ছে। তিনি জানান, বন্যহাতির তাণ্ডবে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা ক্ষতিপূরণ পেতে বন বিভাগের ডিএফও কার্যালয়ে আবেদন করলে নীতিমালা অনুযায়ী ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা হবে।

হাতি ও মানুষের এই দ্বন্দ্ব নিরসনে বন জবরদখল রোধের ওপর জোর দিয়েছেন চকরিয়া উপজেলা পরিবেশ সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মাহমুদ। তিনি বলেন, পাহাড়ি জনপদে হাতি ও মানুষের সংঘাত কমাতে সবকিছুর আগে বনের জায়গা জবরদখল চেষ্টা রোধ করতে হবে। এরপর বনের ভেতর হাতির খাদ্য হিসেবে পর্যাপ্ত গাছ লাগাতে হবে। মূলত বনাঞ্চলে তীব্র খাদ্য সংকটের কারণেই বন্যহাতির পাল লোকালয়ে হানা দিচ্ছে।