সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

লুটপাটের দায় মেটাতে হচ্ছে বর্তমান সরকারকে, পাচার হওয়া অর্থ ফেরানো হবে: অর্থমন্ত্রী

একুশে প্রতিবেদক | প্রকাশিতঃ ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ | ২:২৮ অপরাহ্ন


আগামীতে দেশের অর্থনীতি ও শেয়ারবাজারে বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটবে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, দেশে আর পৃষ্ঠপোষকতার রাজনীতি চলবে না। আগামী বাজেট কোনো গতানুগতিক বাজেট হবে না, বরং এর মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে।

শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সকালে অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়ার পর প্রথমবারের মতো নিজ জেলা চট্টগ্রামে এসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

বিগত সরকারের সমালোচনা করে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ঋণের চাপ এখন অনেক বড়। সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, বিগত সময়ে ভালো প্রকল্পে বিনিয়োগ না করে লুটপাটের প্রকল্প করা হয়েছে এবং সেই টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে। যে জিনিসটা ধ্বংস করে ফেলা হয়েছে, তার দায়ভার এখন বর্তমান সরকারকে বহন করতে হচ্ছে।

অর্থনীতি বর্তমানে খুব খারাপ অবস্থায় আছে উল্লেখ করে তিনি জানান, দারিদ্র্য বাড়ছে, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান কমছে। এই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য অর্থনীতিকে মুক্ত করে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছানোর পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।

পাচার হওয়া অর্থ পুনরুদ্ধারের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, সরকার টু সরকার চুক্তির পাশাপাশি পেশাদার প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে ইতোমধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। পাচার হওয়া অর্থের সর্বোচ্চ অংশ ফিরিয়ে আনতে সবাই মিলে কাজ করা হবে।

গণতান্ত্রিক পরিবেশে দেশে নির্বাচিত সংসদ ও সরকার গঠিত হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, এখন সময় এসেছে চট্টগ্রামকে প্রকৃত অর্থে বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলার। কেবল ঘোষণার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে ব্যাপক বিনিয়োগের মাধ্যমেই এটি বাস্তবায়ন করা হবে। এ জন্য চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম আরও উন্নত ও গতিশীল করার ওপর জোর দেন তিনি।

দেশের প্রধান সমস্যা হিসেবে বেকারত্বকে চিহ্নিত করে মন্ত্রী জানান, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি করা সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। আগামী বাজেট এমনভাবে প্রণয়ন করা হবে, যাতে সাধারণ মানুষ অর্থনীতির সুফল ভোগ করতে পারে এবং অর্থনীতিতে তাদের অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি হয়।

এর আগে শুক্রবার সকালে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছালে দলীয় নেতাকর্মীরা তাঁকে স্বাগত জানান। এরপর বেলা সাড়ে ১১টায় নগরের পাহাড়তলী থানার উত্তর কাট্টলীর নাজির বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত করেন তিনি।

নগরের কদমতলী মাদারবাড়ী জামে মসজিদে জুমার নামাজ আদায়ের পর বেলা আড়াইটা থেকে বিকেল তিনটা পর্যন্ত মেহেদীবাগের নিজ বাসভবনে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করার কথা রয়েছে তাঁর।

এরপর বিকেল তিনটায় একই স্থানে চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম গতিশীল করতে বন্দর সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন তিনি। দিনব্যাপী কর্মসূচি শেষে রাত ৮টা ২৫ মিনিটের ফ্লাইটে তাঁর ঢাকায় ফিরে যাওয়ার কথা রয়েছে।