সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

কর্ণফুলীতে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষ: আহত অন্তত ১৪, পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

আনোয়ারা-কর্ণফুলী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি | প্রকাশিতঃ ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ | ১২:৫০ অপরাহ্ন


চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার বড়উঠান ইউনিয়নে শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ১৪ জন আহত হয়েছেন বলে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ পাওয়া গেছে। সংঘর্ষের পর উপজেলা বিএনপির পক্ষ থেকে রাত ১২টায় কর্ণফুলী ক্রসিং এলাকায় সড়ক অবরোধ করা হয়। অন্যদিকে, পুলিশি হয়রানির প্রতিবাদ জানিয়ে শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বিবৃতি দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী।

সংঘর্ষে আহত বিএনপির চার কর্মী হলেন—কর্ণফুলী উপজেলা যুবদলের সদস্য মো. শাহেদ আলম টিটু, বড়উঠান ইউনিয়ন কৃষক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মনজুর, বড়উঠান ইউনিয়ন যুবদল নেতা মো. ইমন এবং বড়উঠান ইউনিয়ন শ্রমিক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. ফারুক।

বড়উঠান ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. ইদ্রিস হায়দার অভিযোগ করে জানান, বড়উঠান জামায়াতে ইসলামীর যুব সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীরের নেতৃত্বে রামদা, কিরিচ ও লাঠিসোঁটা নিয়ে এই হামলা চালানো হয়। হামলায় মো. আলমগীরের ভগ্নিপতি ও আওয়ামী লীগ নেতা বাহাদুরও জড়িত রয়েছেন। মো. ইদ্রিস হায়দার দাবি করেন, বিগত নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পর প্রতিপক্ষ চরম হতাশ ও ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েছিল। সেই প্রতিশোধস্পৃহা থেকেই তারা এই পূর্বপরিকল্পিত হামলা চালিয়েছে। তিনি জানান, মামুন নামের এক ছাত্র মসজিদে তারাবি নামাজ পড়তে গেলে তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। পরবর্তীতে মামুনের বাবা ও ভাই এর বিচার চাইতে গেলে তাদেরও ধাওয়া করা হয়।

পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে মো. ইদ্রিস হায়দার আরও জানান, যুবদল নেতা মো. শাহেদ আলম টিটুর ওপর পুলিশের সামনেই হামলা হয়। উপপরিদর্শক (এসআই) শফিউল্লাহর উপস্থিতিতেই মারধরের ঘটনা ঘটে এবং তিনি অভিযুক্ত মো. আলমগীরকে নিরাপদে সরে যেতে সহায়তা করেছেন। এই হামলায় ৮ থেকে ১০ জন আহত হয়েছেন বলে দাবি করেন মো. ইদ্রিস হায়দার।

বিএনপির এসব অভিযোগের বিষয়ে কর্ণফুলী উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মুনির আবছার চৌধুরী একুশে পত্রিকাকে বলেন, শুক্রবার তারাবি নামাজ চলাকালীন বিএনপির মো. শাহেদ আলম টিটুর সঙ্গে জামায়াত নেতা মো. আলমগীরের বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। নামাজ শেষে বিএনপির জানে আলম সমস্যা সমাধানের কথা বলে তাদের নাজিমের দোকানে ডাকেন। সেখানে কথা চলাকালীন মো. শাহেদ আলম টিটু হঠাৎ মো. আলমগীরকে লাথি মারলে ঘটনার সূত্রপাত হয়। তিনি আরও জানান, পরিস্থিতি শান্ত করতে বিএনপির মামুনসহ কয়েকজনকে ফোন করা হলেও তারা সাড়া দেননি।

এদিকে, দৌলতপুর গ্রামে সংঘটিত এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ ও পুলিশি হয়রানির অভিযোগ তুলে শনিবার যৌথ বিবৃতি দিয়েছেন কর্ণফুলী উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মুনির আবছার চৌধুরী ও সেক্রেটারি নুর উদ্দিন জাহাঙ্গীর। বিবৃতিতে তারা দাবি করেন, প্রকৃত ঘটনা আড়াল করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে জামায়াতে ইসলামীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা হয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা জামায়াত কর্মীদের বাড়িতে দফায় দফায় হামলা চালায়। পরবর্তীতে বিষয়টি মীমাংসার লক্ষ্যে ফাজিল খার হাট বাজারে গেলে যুবদল নেতা মো. শাহেদ আলম টিটুর নেতৃত্বে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে পুনরায় হামলা করা হয়।

জামায়াত নেতাদের দাবি, এই হামলায় জামায়াত নেতা মো. আলমগীর, এনাম ও মামুনসহ অন্তত ৮ থেকে ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে মামুন ও মো. আলমগীরের অবস্থা আশঙ্কাজনক। পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়ে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমিয়ে রাখার এই অপচেষ্টার তীব্র নিন্দা জানিয়ে মুনির আবছার চৌধুরী ও নুর উদ্দিন জাহাঙ্গীর ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিষয়ে কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীনূর আলম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং এ ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে।

একই বিষয়ে কর্ণফুলী জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) মো. জামাল উদ্দীন চৌধুরী জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।