
চট্টগ্রামের পটিয়া পৌরসদরে ওয়েল্ডিংয়ের কাজ করার সময় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে দুটি ওয়ার্কশপ ভস্মীভূত হয়েছে। শনিবার রাত পৌনে ৮টার দিকে ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মাজার গেট এলাকায় ঘটা এই আগুনে ভেতরে থাকা দুটি মাইক্রোবাস ও একটি লেগুনা সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা প্রায় এক ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে এর আগেই ওয়ার্কশপ দুটিতে প্রায় ৭০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাতে উজ্জ্বল দাশের মালিকানাধীন ‘মা ইঞ্জিনিয়ারিং’ ওয়ার্কশপে কাজ চলছিল। ওয়েল্ডিং করার সময় হঠাৎ করেই সেখানে আগুনের সূত্রপাত হয় এবং তা দ্রুত চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন পাশের জুয়েলের ‘কুলসুমা ইঞ্জিনিয়ারিং’ ওয়ার্কশপেও গ্রাস করে নেয়।
খবর পেয়ে পটিয়া ফায়ার সার্ভিসের দুটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। দীর্ঘ এক ঘণ্টা চেষ্টার পর তারা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। অগ্নিকাণ্ডের পরপরই পটিয়া থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
আগুনে নিজের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কথা জানিয়েছেন ‘মা ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর স্বত্বাধিকারী উজ্জ্বল দাশ। তিনি বলেন, তার ওয়ার্কশপের ভেতরে মেরামতের জন্য রাখা দুটি মাইক্রোবাস ও একটি লেগুনা আগুনে সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। এতে তার প্রায় ৬৮ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে উজ্জ্বল দাশ জানান।
অন্যদিকে ‘কুলসুমা ইঞ্জিনিয়ারিং’ ওয়ার্কশপের স্বত্বাধিকারী জুয়েল বলেন, ঘটনার সময় তার ওয়ার্কশপে কোনো গাড়ি ছিল না। তবে ওয়ার্কশপের ভেতরের বিভিন্ন মূল্যবান সরঞ্জাম পুড়ে গিয়ে প্রায় দুই লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জুয়েল উল্লেখ করেন।
ফায়ার সার্ভিসের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপে আরও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছেন পটিয়া ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন মাস্টার রাজেশ বড়ুয়া। রাজেশ বড়ুয়া জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন, যার ফলে আশপাশের স্থাপনাগুলো রক্ষা পেয়েছে। প্রাথমিকভাবে আগুনের সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি বলে জানান রাজেশ বড়ুয়া।
তবে স্থানীয়রা জানান, ওয়েল্ডিংয়ের স্ফুলিঙ্গ থেকেই এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছে।