
কক্সবাজারের চকরিয়ায় কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে সংঘবদ্ধ ডাকাত দলের হামলায় আবদুল মজিদ (৪৫) নামের এক মাংস বিক্রেতা নিহত হয়েছেন। শনিবার রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে চকরিয়া-মানিকপুর-ইয়াংছা সড়কের কাকারা ইউনিয়নের শাহওমর মাজার গেট এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
তামাক চুল্লির কাজ শেষ করে ফেরার সময় আগে থেকে ওঁত পেতে থাকা ডাকাতদের কবলে পড়েন তিনি ও তার সঙ্গীরা। এ সময় ডাকাতদের হামলায় আরও দুজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
নিহত আবদুল মজিদ চকরিয়া উপজেলার কাকারা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কসাইপাড়া গ্রামের ফকির আহমদের ছেলে। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মো. শাহাব উদ্দিন নিহতের পরিচয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মো. শাহাব উদ্দিন জানান, আবদুল মজিদ দীর্ঘদিন ধরে উপজেলা সদরের সোসাইটি কাঁচাবাজারে মাংস বিক্রি করতেন। এর পাশাপাশি তিনি তামাক চাষের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন।
স্থানীয় এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শনিবার রাতে আবদুল মজিদ নিজের তামাক চুল্লিতে কাজ করছিলেন। কাজ শেষে কয়েকজন শ্রমিককে সঙ্গে নিয়ে হেঁটে বাড়ির দিকে রওনা হন তিনি। পথিমধ্যে শাহওমর মাজারের পাশে পৌঁছালে সেখানে অন্ধকারের মধ্যে লুকিয়ে থাকা একদল ডাকাত তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। ডাকাতদের এলোপাতাড়ি হামলায় বেশ কয়েকজন আহত হন।
হামলার সময় এক শ্রমিক কোনোমতে দৌড়ে পালিয়ে গিয়ে নিজের প্রাণ রক্ষা করতে সক্ষম হন বলে স্থানীয় লোকজন জানান। ওই শ্রমিকের কাছ থেকে খবর পেয়ে আশপাশের মানুষ দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। তারা আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য চকরিয়া উপজেলা সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে রাত ১২টার কিছু পর হাসপাতালে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসক আবদুল মজিদকে পরীক্ষা করে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে এ ঘটনার পর থেকে কাকারা ইউনিয়নের ওই এলাকার সাধারণ মানুষের মাঝে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
ঘটনার পরপরই চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনির হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশের একাধিক দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং জড়িতদের ধরতে অভিযান শুরু করে। ওসি মোহাম্মদ মনির হোসেন বলেন, খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল ও এর আশপাশের এলাকায় পুলিশের একাধিক দল সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছে। ঘাতকরা খুব দ্রুতই পুলিশের হাতে ধরা পড়বে বলে মোহাম্মদ মনির হোসেন আশাবাদ ব্যক্ত করেন।