
মায়ের মৃত্যুর পর কারাগার থেকে প্যারোলে মুক্তি পেয়ে জানাজায় অংশ নিয়েছেন চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বিএনপি নেতা ও প্রবাসী হাজী মোহাম্মদ ইকবাল। রোববার উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নে অনুষ্ঠিত ওই জানাজায় উপস্থিত হয়ে যৌথ বাহিনীর বিরুদ্ধে অস্ত্র দিয়ে ফাঁসানো এবং নির্যাতনের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলেছেন তিনি। নির্বাচনের আগের রাতে তাকে আটক করে এই নাটক সাজানো হয়েছে বলে দাবি করেছেন মোহাম্মদ ইকবাল।
রোববার জানাজার আগে সমবেত মানুষের সামনে নিজের ক্ষোভ ও হতাশার কথা তুলে ধরেন হাজী মোহাম্মদ ইকবাল। তিনি অভিযোগ করেন, ভোটের আগের দিন রাতে সেনাবাহিনী ও রাঙ্গুনিয়া থানা-পুলিশ তার বাসায় তল্লাশি চালায়। কিন্তু সেসময় তারা বাসায় অবৈধ কিছু পায়নি। এরপর তাকে খালের কিনারায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে একটি বন্দুক এনে জোরপূর্বক তার হাতে ধরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে মোহাম্মদ ইকবাল দাবি করেন। অস্ত্র হাতে নিতে অস্বীকৃতি জানালে তার ওপর অমানবিক নির্যাতন চালানো হয় বলেও অভিযোগ করেন এই বিএনপি নেতা।
দীর্ঘ ২২ বছর ধরে প্রবাসে বসবাস করছেন জানিয়ে মোহাম্মদ ইকবাল বলেন, তিনি কখনোই কোনো ধরনের পাপ বা অপকর্মের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। নিজের বিরুদ্ধে হওয়া এই অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনাকে একটি পরিকল্পিত রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উন্মোচনের জন্য বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর কাছেও আকুল আবেদন জানিয়েছেন মোহাম্মদ ইকবাল।
জানাজায় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের সিনিয়র সহসভাপতি ইউসুফ চৌধুরী। সেখানে দেওয়া বক্তব্যে ইউসুফ চৌধুরী বলেন, তারা অত্যন্ত ভারাক্রান্ত হৃদয়ে এই জানাজায় অংশ নিয়েছেন। বিএনপি নেতা হুমাম কাদের চৌধুরীর পক্ষে নির্বাচনি কাজ করতে গিয়েই মোহাম্মদ ইকবাল এমন রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন বলে মন্তব্য করেন ইউসুফ চৌধুরী। তিনি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। পাশাপাশি মোহাম্মদ ইকবালকে প্যারোলে মুক্তি পেয়ে জানাজায় অংশ নিতে প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা দেওয়ায় হুমাম কাদের চৌধুরীর প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ইউসুফ চৌধুরী।
অস্ত্র দিয়ে ফাঁসানোর এই অভিযোগের বিষয়ে রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরমান হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। অভিযোগ অস্বীকার করে ওসি মো. আরমান হোসেন বলেন, এটি যৌথ বাহিনীর একটি সুনির্দিষ্ট অভিযান ছিল এবং আসামির দেখানো তথ্য মতেই একটি রাইফেল উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনায় ইতোমধ্যে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে উল্লেখ করে পুলিশ কর্মকর্তা মো. আরমান হোসেন জানান, পুরো বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।
এর আগে শনিবার রাত ১১টা ৪০ মিনিটে বার্ধক্যজনিত কারণে ইন্তেকাল করেন ইসলামপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা জিল্লুর রহমান ভান্ডারী ও প্রবাসী হাজী মোহাম্মদ ইকবালের মা। মায়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্যারোলে মুক্তি নিয়ে রোববার তার জানাজায় অংশ নেন মোহাম্মদ ইকবাল।