
চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে কৃষি জমির টপসয়েল (উপরিভাগের মাটি) কাটার সঙ্গে যুক্ত অপরাধীদের সহায়তা করার দায়ে মো. জুয়েল মিয়া নামের এক ব্যক্তিকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং ১৫ দিনের কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
রোববার দিবাগত রাত ২টার দিকে উপজেলার ধলইপুল এলাকায় এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। পরে সোমবার দুপুরে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই অভিযানের বিষয়টি সংবাদমাধ্যমের কাছে নিশ্চিত করা হয়েছে।
দণ্ডিত মো. জুয়েল মিয়া হাটহাজারী উপজেলার ধলই ইউনিয়নের শফিনগর এলাকার বাসিন্দা মো. মাহবুব আলীর ছেলে। উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শাহেদ আরমানের নেতৃত্বে রোববার রাতে অবৈধ মাটিখেকোদের বিরুদ্ধে ওই অভিযান চালানো হয়েছিল।
অভিযানের বিস্তারিত জানিয়ে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ধলইপুল এলাকায় রাতের আঁধারে কৃষি জমির টপসয়েল কাটার গোপন অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় ভ্রাম্যমাণ আদালত। কিন্তু অভিযানের খবর আগেভাগেই পেয়ে মাটি কাটার সঙ্গে যুক্ত মূল অপরাধীরা সেখান থেকে দ্রুত পালিয়ে যায়।
তবে অভিযানের শুরু থেকেই মো. মাহবুব আলীর ছেলে মো. জুয়েল মিয়া একটি মোটরসাইকেলে করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাহেদ আরমানের অবস্থান অনুসরণ করছিলেন। মূলত তিনিই ওই অপরাধীদের কাছে প্রশাসনের গতিবিধির তথ্য পাচার করছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে।
সন্দেহ হওয়ায় একপর্যায়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাহেদ আরমান তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এ সময় মো. জুয়েল মিয়া নিজের অপরাধ অকপটে স্বীকার করে নেন। এরপর কৃষি জমির টপসয়েল কাটায় সহায়তা করার অপরাধে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা (সংশোধন) আইন, ২০১০ এবং দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা এবং ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন। জরিমানা অনাদায়ে তাকে আরও সাত দিনের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়।
পরিবেশ রক্ষায় প্রশাসনের এমন কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শাহেদ আরমান। মো. শাহেদ আরমান জানান, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এবং অবৈধভাবে কৃষি জমির মাটি কাটা বন্ধ করতে প্রশাসনের এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।